বর্ষায় বৃষ্টি শুরু হলে চর নেয়ামত, চর কাদিরা, চরবসু, কারামতিয়া, চর কলাকপা, জাহাজমারা, চর ফলকনসহ আশপাশের এলাকার মানুষ জন নিয়মিত পানিবন্দি থাকতে হয়। সাম্প্রতিক বন্যায় কয়েক হাজার একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আমন ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষ বিলুপ্তির পথে। এসব এলাকায় কৃষকরা গভীর সংকটে পড়েছেন। একদিকে ফসলহানি, অন্যদিকে বাড়িঘরেও পানি ওঠায় মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় কৃষক মোঃ সিরাজ বলেন, “আমাদের জমিগুলোতে পানি জমে থাকায় এবার আমন ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। নদী খনন না করলে আগামী বছরও ফসল করতে পারব না।”
চর কলাকপা গ্রামের গৃহবধূ রোকেয়া বেগম বলেন, “বর্ষার সময়ে ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। চারপাশে পানি জমে থাকে। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠানো কষ্টকর হয়ে পড়ে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুলুয়া নদীর পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা না গেলে এ অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কৃষি নির্ভর এই এলাকার অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এলাকাবাসী বলছেন, ভুলুয়া নদী খনন করা এখন সময়ের দাবি। তবে তারা চাচ্ছেন, কাজটি স্বচ্ছ ও অনিয়ম মুক্তভাবে সম্পন্ন হোক। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সুমন বলেন, “এত বড় প্রকল্প ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কাজটি করতে হবে। তাহলে দুর্নীতি হবে না।”
কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের একজন জনপ্রতিনিধি জানান, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। খনন কাজ হলে শুধু কৃষি নয়, আশপাশের মানুষের জীবনযাত্রাও স্বাভাবিক হবে। আমরা বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে জানাচ্ছি।”
ভুলুয়া নদীর খনন কাজ দ্রুত শুরু না হলে এই অঞ্চলের মানুষকে আরো দীর্ঘদিন ভুগতে হবে। তাই এলাকার সাধারণ মানুষ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করে তাদের দুর্ভোগ দূর করা হোক।
