শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা আজ। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে তিনি বিশেষরূপে পূজিত হন। নগরীর বিভিন্ন মন্দির, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা মেডিকেল কলেজ, বিএল কলেজসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সারাদেশ ব্যাপী একযোগে এ পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিদ্যার্থীরা পূজার আয়োজনে প্রতীমা তৈরি, মন্দির সাজানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সরস্বতী বিদ্যার দেবী। শিক্ষার্থীরা বিদ্যা ও জ্ঞান অর্জনের জন্য এ পূজা করে থাকেন। সরস্বতীর অপর নাম বীণাপানি।
এ পূজা শুধু মর্ত্তবাসী করে তা নয়, ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে, অবতার পুরুষ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপর যুুগে সর্ব প্রথম সরস্বতীর পূজা করেছিলেন। সরস্বতী মাতা ত্রিলোক পূজিত। সুরাসুর এবং সব নরের জননী তিনি। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, ইন্দ্রাদিসহ সকল দেবতা তাকে একমন হয়ে পূজা করেন। তার কৃপাতেই আমরা কথা বলে থাকি, এজন্য তিনি বাগদেবী।
সরস্বতী শুক্লাবর্ণা, শুভ্র হংসবাহনা’ ‘বীণা-রঞ্জিতা পুস্তক হস্তে’ অর্থাৎ এক হাতে বীণা ও অন্য হাতে পুস্তক। বীণা হাতে ধারণ করেছেন বলে তাকে বীণাপানি বলা হয়। আর বিদ্যার্থীর লক্ষ্য জ্ঞান অন্বেষণ। আর সে জ্ঞান ও বিদ্যা অন্বেষণের জন্য জ্ঞানের বই ‘বেদ’ তার হাতে। শাস্ত্রমতে শ্রীদুর্গা, শ্রীলক্ষ্মী ও শ্রীসরস্বতী এই তিনজনকে ত্রিদেবী দেবী বলা হয়। অর্থাৎ সরস্বতী ত্রিদেবীদের মধ্যে একজন।
পূজার উপলক্ষে আজ সকালে উপবাস থেকে ভক্তরা মন্দিরে প্রতিমা ও মঙ্গল ঘট স্থাপন করেছেন। পুরোহিত পূজা শেষে উপস্থিত ভক্তবৃন্দ দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন। প্রসাদ সামগ্রী হিসেবে বিভিন্ন প্রকার ফল, চিড়া, খই, গুড়, লুচি, কোন স্থানে খেচুড়ী প্রসাদ দেয়া হয়ে থাকে। পূজা অন্তে প্রসাদ বিতরণ করা হবে। এদিন ছোট ছেলে-মেয়েরা কালির দোয়াত, আমের বলপ ও বই হাতে মন্দিরে প্রবেশ করবে। কেউ কেউ বিদ্যার অর্জনের জন্য প্রথমে হাড়ে খড়ি দিয়েছে।
সন্ধ্যায় সকল মন্দিরে আরতি অনুষ্ঠান হয়। আরতির পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বার মাসে তের পূজার অন্যতম হলো বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা।

Comments are closed.