গ্রামীণ জনপথ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের পাহাড়ি ছনপাতা। পাহাড়ি ছনের ঘর আরামদায়ক। ছনের ছাউনি দেয়া ঘর তীব্র গরমে ঠাণ্ডা আর শীতকালে উষ্ণ গরম রাখতো। একসময়ে অভিজাত থেকে দরিদ্র শ্রেণীর প্রায় সব ঘরের ছাউনি ছিল ছনের। ছন আহরণ ও বিক্রি করে সংসার চালাতো অনেক দরিদ্র পরিবার। এখন সে দিন পরিবর্তন করে আধুনিক যুগে পা দিয়েছে লোকজন।
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কোথাও এখন ছনের ছাউনি তেমন চোখে পড়েনা। রড, সিমেন্ট, ইট, টিনসহ ঘর নির্মাণের অপরাপর উপকরণ সহজলভ্য হওয়ায় মানুষ সেদিকে ঝুঁকে পড়ছে। ফলে ছনের অস্তিত্ব এখন বিলীন হতে বসেছে।
একসময়ে ঈদগাঁওর পাহাড়ে ছন চাষ হতো এবং প্রকৃতিগতভাবে ছন গাছ জন্ম নিতো। তখন এলাকার লোকজন ছন কাটতে যেতো। ছন আহরণের পর পর্যাপ্ত রোদে শুকিয়ে নিয়ে তা ব্যবহার ও বিক্রির উপযুক্ত করতো। তারপর কাঁধে ভার করে লোকজন ছন নিয়ে বাজারে আসার দৃশ্য এখন বিলুপ্ত। বর্তমান সময়ে ছনের ব্যবহার কম হওয়ায় ধীরে ধীরে চাহিদা কমে যাচ্ছে। ফলে আগের মত ছন চাষ হচ্ছেনা।
প্রবীণ মুরুব্বী আহমদ হোসেন জানান, পূর্বেকার দিনে অধিকাংশ ঘরবাড়ি ছনের ছাউনি যুক্ত ছিল।ছনের মাটির ঘর ছিল আরামদায়ক। গরমকালে ঘরকে রাখতে ঠাণ্ডা আর শীতকালে রাখতো উষ্ণ গরম। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বর্তমানে মানুষ পাকা বাড়ি, টিনের ছাউনির প্রতি ঝুঁকে পড়ায় হারিয়ে যাচ্ছে সেই ঐতিহ্যের সাক্ষী পাহাড়ি ছন।
মোহাম্মদ আলম জানান, রড, সিমেন্ট, ইট, ঢেউটিন সহজলভ্য হওয়ার ফলে মানুষ আস্তে আস্তে পাকা ঘর, সেমিপাকা ঘর নির্মাণ নির্মাণের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তাছাড়া ঢেউটিন সহজলভ্য পণ্য হয়ে উঠেছে। ফলে নতুন ঘর নির্মাণে টিনের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। যার কারনে গ্রামীন জনপদ থেকে এখন প্রায় বিলুপ্তিতে ছনপাতা।
এনএএন টিভি / এম আবু হেনা সাগর
