চট্টগ্রামের কারফিউর শিথিলের সময় বাড়ানোর পর খুচরা বাজারগুলোতে পণ্য সরবরাহ বেড়েছে। পণ্য সরবরাহ বাড়ায় খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে ১০ থেকে ১২ টাকা কমেছে সব সবজির দাম। তবে আমদানি করা গাজর ও টমেটোর দাম এখনো চড়া। এ ছাড়া কমেছে কাঁচা মরিচের দাম, ৩২০ টাকার কাঁচা মরিচ এখন ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আজ শুক্রবার চট্টগ্রামের নগরে পাঁচটি খুচরা বাজার ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র।
আজ ছুটির দিনে সকাল ৬টা থেকে ১২ ঘণ্টা কারফিউ শিথিল রয়েছে। এ দিন সকাল থেকে খুচরা বাজারগুলোতে বাজার করতে আসা লোকের ভিড় দেখা গেছে। চট্টগ্রামের বৃহৎ পাইকারি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি পর্যায়ে ১০ থেকে ১২ টাকা কমেছে সব সবজির দাম কমেছে। বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কারফিউ প্রথম পাঁচ দিনে পণ্য সরবরাহ তেমন হয়নি। বুধবার থেকে সরবরাহ বাড়তে থাকে। পরিবহন খরচও প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। তবে বাজারে ক্রেতা ছিল না। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বাজারে দাম কম। ক্রেতাও বাড়তে শুরু করেছে।
রিয়াজউদ্দিন বাজার আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক শিবলী বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। তাই সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। অধিকাংশ সবজি ৩০ টাকার নিচে বিক্রি হয়েছে। তবে আমদানি করা গাজর ও টমেটোর দাম বেশি। কাঁচা মরিচের দাম ৩২০ টাকা ছিল। বর্তমানে ১৬০ টাকা।
আজ নগরে বহদ্দারহাট, চকবাজার, কর্ণফুলী কমপ্লেক্স ও বক্সিরহাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত চার দিনের তুলনায় বাজারে সব সবজিতে দাম কমেছে ১০ টাকার আশপাশে। কাঁচা মরিচের দাম কমেছে অন্তত ১০০ টাকা। এ ছাড়া বেগুন, ঢ্যাঁড়স, শসা, ঝিঙা, ধুন্দুল, চিচিঙ্গা ও মিষ্টি কুমড়ার দামও কমেছে। তবে এসব সবজির দাম গড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। যদিও পাইকারি পর্যায়ে এসব সবজির দাম ৩০ টাকার আশপাশে।
খুচরা দোকানিরা বলছেন, পাইকারিতে সরবরাহ বাড়লেও নগরের ভেতরে পরিবহন খরচ এখনো বাড়তি। তবে তা কমতে শুরু করায় দাম কমেছে কিছুটা। পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হলে দাম আরও কমে যাবে। তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় বাজারে ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে।
তবে ক্রেতারা বলছেন, পর্যাপ্ত সবজি থাকলেও সুযোগে বাড়তি দাম নিচ্ছেন বিক্রেতারা। বহদ্দারহাট বাজারে সবজি কিনতে আসা আজিজুর রহমান বলেন, খাতুনগঞ্জ থেকে বহদ্দারহাট বাজার পাঁচ-ছয় কিলোমিটার হবে। এই দূরত্বে দাম ৩০-৪০ টাকা বেড়ে যাচ্ছে।
আজ খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ও পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে আলু ৪৭-৪৮ ও পেঁয়াজ ৯০-৯২ টাকার আশপাশে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার ১০ টাকা কমে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ও প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা আশপাশে বিক্রি হয়েছে।
চাক্তাই শিল্প ও ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান খালেদ বলেন, বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। তবে ক্রেতারা এখনো বাজারে আসছেন না। খুচরা বাজার থেকে কিছু ক্রেতা এসেছেন। পরিস্থিতির পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে ক্রেতা বাড়বে।
