নিত্যপণ্যের দামের আগুনে পুড়ছেন ক্রেতা। রাজধানীর বাজারে এখনও সরকার নির্ধারিত দামের থেকে বেশিতেই বিক্রি হচ্ছে ডিম। এরমধ্যে আবার পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করেছে ব্রয়লার মুরগি ও চালের দাম। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতার অস্বস্তি বাড়িয়েছে সবজি ও মাছ।
উচ্চমূল্যের কারণে প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতা। এমন পরিস্থিতির দ্রুত অবসান চান তারা।
আকাশচুম্বী দামে ডিম যেন উঠছে না গরিবের পাতে! ‘সিন্ডিকেট’ কারসাজি করে দফায় দফায় বাড়িয়ে দেয়ায় ডিমের দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। তাতেও স্বস্থি নেই বাজারে। গত দুই সপ্তাহের মধ্য ডিমের ডজন সর্বোচ্চ দাম ঠেকে ১৮০ টাকা। এত দামের জন্য দায়ী কারা?
প্রশ্নের জবাবে বিক্রেতাদের দাবি, এখনও কারসাজি চলছে বাজারে। যদিও রাজধানীর কারওয়ানবাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে ২০-২৫ টাকা কমে এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়।
তবে ভিন্ন চিত্র রাজধানীর মিরপুর এলাকায়। শাহ আলী মার্কেটে গিয়ে দেখা যায় জরিমানার ভয় জাপটে ধরেছে ডিম বিক্রেতাদের। কোনো দোকানেই নেই ফার্মের মুরগির লাল-সাদা ডিম। তবে দোকানিরা সেখানে বিক্রি করছেন হাঁসের ডিম।
কয়েকজন ক্রেতা জানান, আশপাশের কয়েক মার্কেট ঘুরেও মুরগির ডিমের দেখা পাননি তারা।
অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, একদিনের ব্যবধানে যদি ডজনে ২০-৩০ টাকা কমে ডিম বিক্রি হয়, তখন বোঝাই যায় সিন্ডিকেট কাজ করছে।
ডিমের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে ব্যস্ত যখন পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র, তখন আবার বাড়ছে মুরগির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ১০-১৫ টাকা বেড়ে ডাবল সেঞ্চুরি করেছে ব্রয়লারের কেজি। ব্যবসায়ীদের যুক্তি, বন্যায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক খামারিরা।
এদিকে কোনোভাবেই কমছে না সবজির দর। প্রতিদিনই ওঠানামায় আছে করলা, শিমসহ সব ধরনের সবজির দাম। বেগুনের জন্য গুনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। পটল ও ঢেড়স ঘুরপাক খাচ্ছে ৭০ টাকার আশপাশে।
নতুন করে দামের উত্তাপ চালের বাজারেও। সাত দিনের ব্যবধানে বিআর-২৮ চালের কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকায়। কমতি নেই পাইজাম, মিনিকেটসহ অন্যান্য চালের দামেও।
মাছের চড়া দরে নাকাল অবস্থা ক্রেতার, ২৫০-৪০০ টাকায় মিলবে এক কেজি রুই আর তেলাপিয়া ২০০ টাকা এবং চিংড়ির জন্য গুনতে হবে হাজার টাকা।
