পৃথিবীর গভীরে লুকিয়ে আছে হাইড্রোজেনের বিশাল ভাণ্ডার

পৃথিবীর চারপাশে যে বিশাল সমুদ্র আমরা দেখি, তার কথা সবারই জানা। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর অভ্যন্তরে এর চেয়েও অনেক বেশি হাইড্রোজেন লুকিয়ে থাকতে পারে। নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, পৃথিবীর কেন্দ্রে হাইড্রোজেনের পরিমাণ পৃথিবীর সব সমুদ্রের পানির হাইড্রোজেনের চেয়ে ৯ গুণ, এমনকি সর্বোচ্চ ৪৫ গুণও হতে পারে।

বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশনস-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য এসেছে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীর কেন্দ্রের মোট ওজনের প্রায় ০.৩৬ থেকে ০.৭ শতাংশ হতে পারে হাইড্রোজেন। হাইড্রোজেন হলো পানির মূল উপাদান এবং জীবনের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি মৌল।

গবেষণার প্রধান লেখক ডংইয়াং হুয়াং জানান, এই ফলাফল বলছে, পৃথিবী গঠনের সময়ই বেশির ভাগ পানি বা হাইড্রোজেন ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল। পরে ধূমকেতু বা গ্রহাণুর (মহাকাশের পাথর) আঘাতে পানি এসে জমেনি, এমন ধারণাই এখানে জোরালো হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে সূর্যের চারপাশে থাকা গ্যাস ও ধুলা একত্র হয়ে পৃথিবীর জন্ম হয়। তখনই তৈরি হয় পৃথিবীর কেন্দ্র, আবরণ ও ভূত্বক। পৃথিবীর কেন্দ্র খুব গরম ও চাপযুক্ত। সেখানে লোহা ও নিকেলের মতো ধাতু গলিত অবস্থায় থাকে। এই কেন্দ্রই পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে, যা আমাদের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে।

কিন্তু এত গভীরে সরাসরি যাওয়া অসম্ভব। তাই বিজ্ঞানীরা বিশেষ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষাগারে সেই চাপ ও তাপের পরিবেশ তৈরি করেন। তারা লোহাকে গলিয়ে, খুব সূক্ষ্মভাবে (পরমাণু স্তরে) দেখে বুঝেছেন—হাইড্রোজেন সেখানে কীভাবে থাকে।

তবে বিজ্ঞানীরা সতর্কও করেছেন। এই হিসাব পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়। আরও গবেষণা দরকার। কিছু বিজ্ঞানীর মতে, কেন্দ্রের হাইড্রোজেনের পরিমাণ এর চেয়েও বেশি হতে পারে।

তবু এই গবেষণা আমাদের একটি বড় প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাহায্য করছে, পৃথিবীতে পানি এলো কীভাবে। আর সেটাই জীবনের শুরু বোঝার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

 

এনএএন টিভি