সিনেমার পর্দায় অস্বস্তিকর দৃশ্যে অভিনয় নিয়ে মুখ খুললেন বিজয়-রাশমিকা

সিনেমার পর্দায় গ্ল্যামার আর সাফল্যের ঝলকানি হয়ত আমরা দেখতে পাই। তবে পর্দার পেছনে যে অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা ও আপসের চাপ রয়ে যায় তা অনেক সময়ই আড়ালে পড়ে থাকে। একজন শিল্পী অভিনয়ে কতটা ছাড় দেবেন, আর কোথায় ‘না’ বলা জরুরি, সেই প্রশ্নে এবার মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় জুটি বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা।

সম্প্রতি টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এ হাজির হয়ে শুটিং সেটের অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা, পোশাকের সীমা নির্ধারণ এবং শিল্পীদের একা হয়ে পড়ার ভয় নিয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন এই দক্ষিণী তারকারা।

বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় খোলামেলা পোশাক বা বিকিনি পরার দাবি উঠলেও নিজের অস্বস্তির কথা স্পষ্টভাবে জানান রাশমিকা। তিনি বলেন, কিছু চরিত্রের জন্য এমন পোশাকের প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু তিনি ব্যক্তিগতভাবে এসব পোশাকে স্বচ্ছন্দ নন। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, কিছু চরিত্রের প্রয়োজনে বিকিনি বা এ ধরনের পোশাক পরতে হয়। কিন্তু শরীর প্রদর্শন বা খোলামেলা পোশাকে আমি স্বচ্ছন্দ নই। আমি সে ধরনের মানুষ নই।’

তবে বাণিজ্যিক সিনেমায় কাজ করতে গেলে এমন কিছু পোশাক পরতে হতে পারে। যাতে অভিনেতারা পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না বলে জানান রাশমিকা। তিনি বলেন, ‘আমি নিজের জন্য কিছু সীমা নির্ধারণ করে রেখেছি। বেশির ভাগ সময় পরিচালকরা তা মেনে নেন। কারণ, আমি এমন পরিচালকদের সঙ্গেই কাজ করতে পছন্দ করি, যারা আমার অবস্থান বোঝেন।’

বিষয়টি নিয়ে বিজয়ও খোলামেলা কথা বলেছেন। তার মতে, নিজের অস্বস্তির কথা জানানো বা কোনো বিষয়ে আপত্তি তোলা এখনো সহজ নয়। এ ধরনের আলোচনা যে মানসিকভাবে কষ্টকর, তা-ও উল্লেখ করেছেন তিনি।

শুটিংয়ের কোনো দৃশ্য ভাইরাল হয়ে গেলে অভিনেতারা অনেক সময় অসহায় বোধ করেন। করণ জোহর এ প্রসঙ্গ তুললে রাশমিকা মান্দানাও জানান, নিজের অস্বস্তির কথা সবার সামনে বলা সবসময় সহজ হয় না। এমন পরিস্থিতিতে তিনি প্রায়ই বিজয়ের কাছ থেকে সাহস ও আশ্বাস পান।

রাশমিকা বলেন, ‘অভিনেতাদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করা দরকার, যেখানে তারা এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। আমার নিজের কাছেও বিষয়টি কঠিন মনে হয়। অনেক সময় বলতে ইচ্ছে করে, আমি এটা করতে চাই না।’

বিজয়ের মতে, কোনো সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর নিজের আপত্তির কথা জানালে অভিনেতাদের অপেশাদার হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ভয় থাকে। এই ভয় কাটিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে তাঁদের পাশে কারও থাকা জরুরি।

বিজয়ের ভাষায়, ‘নিজের অবস্থানে অটল থাকলে কোনো সমস্যা নেই, এই আশ্বাস দেওয়ার জন্য প্রত্যেকেরই একটা সমর্থন ব্যবস্থা প্রয়োজন।’ তার মতে, অনেক সময় অভিনেতারা এমন পরিস্থিতিতেও আপস করতে বাধ্য বোধ করেন, যা তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যের পরিপন্থি বা অস্বস্তিকর।

 

 

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card