ছাত্রদের পক্ষে স্ট্যাটাস দিয়েই কি গ্রেপ্তার?

‘আমার বাবার কী অপরাধ’—শিক্ষকের সন্তানের প্রশ্নে আবেগঘন মুহূর্ত

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হক-এর গ্রেপ্তার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বলছেন, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় একজনের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন।

আজ শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলার প্রতিবাদ জানান।

‘আমার বাবার কী অপরাধ’ — সন্তানদের প্রশ্নে স্ত্রীর কান্না
সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে মাহমুদুল হকের স্ত্রী মাসুবা হাসান বলেন,
“আমি আজ ভুক্তভোগী।আমার দুটো সন্তান। একটি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে, আরেকটি মাত্র ছয় বছর বয়সী। ওরা বাবার সঙ্গে দেখা করে এসে জানতে চায়, ‘আমার বাবার কী অপরাধ?’ আমি কী জবাব দেব তাদের?”

মামলার পেছনে ষড়যন্ত্র?
গতকাল হাজিরহাট থানা পুলিশ মাহমুদুল হককে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে। ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ২ আগস্ট পুলিশি অভিযানের সময় ছমেস উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি মারা যান। অথচ তার কবরের সাইনবোর্ডে উল্লেখ রয়েছে, তিনি পুলিশ দেখে দৌঁড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা যান, যা প্রাইম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকের দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য
সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফ বলেন, “যেসব শিক্ষক-ছাত্র গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, তাদের বিরুদ্ধে এখন একের পর এক মামলা হচ্ছে। এটি একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের উত্তর প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।”

বক্তব্য রাখেন আরও অনেকে, যেমন—রহমত আলী, শাহরিয়ার সোহাগ, শাহিন আলম প্রমুখ।

মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ষড়যন্ত্র?
স্ত্রী মাসুবা হাসান বলেন, “রংপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আগে এক অটোচালক হত্যা মামলায়ও তাঁকে আসামি করা হয়েছিল। এবারও হঠাৎ করে একটি মামলায় তাঁকে যুক্ত করা হলো। কারণ, তিনি সবসময় ফেসবুকে ছাত্রদের পক্ষের কথা বলতেন।”

মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে উত্তাল বেরোবি

মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে উত্তাল বেরোবি-২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম, না হলে থানা ঘেরাও:

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সোহাগ বলেন,

“জুলাই আন্দোলনের পক্ষে কথা বলার অপরাধেই যদি একজন শিক্ষক গ্রেপ্তার হন, তবে আমাদের আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কি হতে পারে, তা বোঝাই যাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্যারের মুক্তি দিতে হবে, না হলে থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাব।”

সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাহামুদুল হকের মুক্তির আলটিমেটাম দেন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। এছাড়া তাঁকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশ থেকে তিনটি দাবি পেশ করা হয়:

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে মাহমুদুল হককে।

ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন চলবে।

উপাচার্যের প্রতিক্রিয়া
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শওকাত আলী বলেন,
“তদন্তের আগেই মাহমুদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনি জামিনে মুক্তি পেলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এন এ এন টিভি