আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। ইয়েমেনের লোহিত সাগরের ‘কৌশলগতভাবে’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দর হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাবেল মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী মোখা বন্দর এবং মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে ইরান সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী এই কৌশলগত জলপথের ওপর নিজেদের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ১০ শতাংশ এই প্রণালির মাধ্যমেই পরিবাহিত হয়। বিশেষ করে ওপেকভুক্ত শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের এশীয় বাজারমুখী তেল রপ্তানির প্রধান পথ হলো এই ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত জলপথ।
এই পরিস্থিতির জেরে এদিন আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৫ ডলার ৪০ সেন্টে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ২০ সেন্টে লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইতিমধ্যে আংশিকভাবে অবরুদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে লোহিত সাগরের এই নতুন ঘটনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে দারুণভাবে আতঙ্কিত করে তুলেছে।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং তেহরানের পাল্টা পদক্ষেপে তেলের দাম একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ১২৬ ডলারে পৌঁছেছিল। পরবর্তীতে শান্তি আলোচনার মাধ্যমে দাম কিছুটা নিম্নমুখী হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বিশ্ববাজারে ফের বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
