খানপুরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ, প্রশ্ন সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে

নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি রেলওয়ের জমি দখল, অবৈধ স্থাপনা ও দোকান নির্মাণ, চাঁদাবাজি, বিদ্যুৎ চুরি করে মেলা পরিচালনা, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ নানা অনিয়ম ও অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে খানপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদ ব্যবহার করে আব্দুর রহমান ও তার সহযোগীরা সরকারি রেললাইনের জায়গা দখল করে একটি অবৈধ ক্লাব নির্মাণ করেছেন। একইভাবে রেলওয়ের জায়গায় একাধিক দোকান বসিয়ে সেখান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, সরকারি বিদ্যুৎ সংযোগ অবৈধভাবে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় মেলা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও উঠেছে ওই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে স্থানীয়রা উল্লেখ করছেন, সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ। সম্প্রতি প্রায় ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নারীর ওপর হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, আব্দুর রহমান যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক—এ তথ্য বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক সংগঠনের পদ-পদবি ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে কোনো অপরাধ বা অনিয়মে জড়িত হওয়ার অভিযোগের মুখে পড়লে সংশ্লিষ্ট সংগঠন তার বিরুদ্ধে কী ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে?
স্থানীয়দের প্রশ্ন—অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে দলীয় পদ ব্যবহার করে সংঘটিত এসব কর্মকাণ্ডের দায় কি ব্যক্তির ওপরই বর্তাবে, নাকি সংগঠনও সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি বিবেচনা করবে? একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি বা বহিষ্কারের মতো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও জানতে চান তারা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
খানপুরবাসীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় যারই হোক, সরকারি সম্পত্তি দখল, অবৈধ স্থাপনা, বিদ্যুৎ চুরি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা কিংবা সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি।
তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক দলের পদ-পদবি কারও ব্যক্তিগত দায়মুক্তির ঢাল হতে পারে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের শাসন ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিয়ে আস্থা বাড়বে।
এ বিষয়ে আব্দুর রহমানের বক্তব্য এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হলে অভিযোগগুলোর ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপন আরও নিশ্চিত হবে।

 

 

 

এনএএন টিভি