মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে দুই তরুণীকে বেল্ট দিয়ে পেটানো সেই তরুণ আটক, বললেন ‘আমার ভুল হয়েছে’

মুন্সীগঞ্জে একটি লঞ্চে নৌভ্রমণে বের হওয়া যাত্রীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকজন নারীর ওপরেও হামলা হয়। তাদের মারধর ও পেটানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে অনলাইন-অফলাইনে চলছে সমালোচনার ঝড়।

জানা যায়, শুক্রবার (৯ মে) সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে ৩তলা লঞ্চ এমভি ক্যাপ্টেনে এ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

দুই তরুণীকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় নেহাল আহমেদ ওরফে জিহাদ নামে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে তাঁকে আটক করে সদর থানার পুলিশ।

আটক নেহাল আহমেদ মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ বলছে, ‘এমভি ক্যাপ্টেন’ নামের লঞ্চে মারধরের শিকার ওই দুই তরুণীর বয়স ১৯-২০ বছর হবে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম বলেন, গতকাল শুক্রবার মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সে ঘটনার প্রেক্ষিতে আমরা জিহাদকে (নেহাল আহমেদ) থানায় আসতে বলি। সে থানায় আসে। আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’

তিনি দাবি করেন, ‘স্থানীয় কয়েক শ মানুষ তরুণীদের আচরণ ও বেশভূষায় ক্ষিপ্ত হয়। তরুণীদের ওপর আক্রমণ করতে আসে। সে সময় ভুক্তভোগী কয়েকজন তরুণী আমাকে অনুরোধ করে, আমি যেন তাদের এমন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করি। আমি তাঁদের বাইরের পরিস্থিতি বুঝানোর চেষ্টা করি। তাদের নিরাপদে উদ্ধার করতে গেলে, মব সৃষ্টি করে আমার ওপর হামলা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁরা আমাকে বড় ভাই হিসেবে কিছু করতে বলেন।’ তিনি বলেন, ‘বড় ভাই হিসেবে আমি সেখানে শাসন করি। এর বেশি কিছু নয়। তারপরও আমি যেটি করেছি এটি ভুল করেছি, আমি এর জন্য অনুতপ্ত।’

সদর থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী এক তরুণীকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। তবে তিনি আসবেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ দেখাচ্ছে। নৌ পুলিশ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। কেউ কোনো ব্যবস্থা না নিলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।

এনএএন টিভি