আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের আশ্বাসে আমরণ অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১৯ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন তারা।
এর আগে সকাল ১১টা থেকে ফলাফল জটিলতা নিরসনে আমরণ অনশনে বসেন বেরোবি ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
ল্যাব পরীক্ষায় মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় অনার্সের সার্টিফিকেট পেতে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
বিভাগের ওই শিক্ষাবর্ষের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেট নেয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও শিক্ষার্থী শামীম ইসলামের চূড়ান্ত ফলাফল আটকে যায়।
এ অবস্থায় ফলাফল জটিলতা নিরসন করে দ্রুত সমস্যা সমাধান না করলে আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার হুশিয়ারি দেন তারা।
তারা জানান, তাদের আমরণ অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য দুপুর থেকেই কর্মসূচিস্থলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর,
ছাত্র উপদেষ্টা, বহিরঙ্গন পরিচালক, ছাত্রলীগের নেতারা অনুরোধ জানান।
তবে তারা জটিলতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
পরে বিকেলে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ গিয়ে তাদের আমরণ প্রত্যাহার করে
নেয়ার অনুরোধ জানালে তারা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে শামীম ইসলামের পরীক্ষা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।
পরে ড. তুহিন ওয়াদুদ আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের আশ্বাস দিয়ে রাত সাড়ে ১১টায়
বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আসিফ আল মতিন ও সহকারী অধ্যাপক জিনাত শারমিনকে আন্দোলনস্থলে পাঠালে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম মুকুল বলেন, বিভাগের দুজন শিক্ষক এসে আমাদের জানিয়েছেন যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ
আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে আমাদের সহপাঠী শামীম ইসলামের পরীক্ষা গ্রহণ করে ফলাফল প্রকাশ করবেন।
এজন্য আমরা আমরণ অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছি। যদি সাত কর্মদিবসের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ না হয় তাহলে আমরা আবারও আন্দোলনে যাব।
বিভাগীয় প্রধান আসিফ আল মতিন বলেন, আমাদের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন।
তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে পরীক্ষা নেয়া এবং ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ সহায়তা করবেন। এই আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

Comments are closed.