কাঁচা মরিচের ঝাল আরও বাড়লো, কমেনি মসলার ঝাঁঝও!

কোরবানির ঈদের আগে রাজধানীর খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। মরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে আমদানির ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

আমদানির ঘোষণার দেওয়ার পরও দাম না কমে উল্টো কেজিতে দাম বেড়েছে দেড়শ থেকে দুইশ টাকা।

মঙ্গলবার (২৭ জুন) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে আজ কেজি প্রতি আরও ৫০-৬০ টাকা বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ৪০০ টাকা।

বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টি ও সরবরাহ কম থাকায় কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে।

এদিকে, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায় এর থেকে ২০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে আমদানি করা পেঁয়াজ।

পেঁয়াজের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও অস্বস্তি বিরাজ করছে গরম মসলার বাজারে। এছাড়া ভালো মানের আদা প্রতিকেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বুধবার (২৮ জুন) সকালে কারওয়ান বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটসহ একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে আদা, রসুন, জিরা, এলাচ, গোলমরিচ, লবঙ্গসহ বেশকিছু মসলাজাতীয় পণ্য।

কারওয়ান বাজারে আসা এক ক্রেতা কাঁচা মরিচের দাম শুনে তিনি বলেন, কিছুই করার নেই, বাড়তি দামেই কিনে খেতে হবে।

কৃষিপ্রধান দেশে ৪০০ টাকা কেজি কাঁচা মরিচের। এটা মেনে নেওয়া যায় না।

কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী আলতাফ বলেন, মরিচ গতকাল সাড়ে তিনশ টাকা কেজি ছিল। আজ আমাদের কেনা বেশি দামে, ৪০০ টাকার নিচে বিক্রি করতে পারছি না।

এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা বিক্রি করছি। তবে বেশি পরিমাণ নিলে কিছুটা কম নেওয়া হবে।

তোফায়েল নামের কাঁচামালের ব্যবসায়ী জানান,

‘এবার প্রচণ্ড গরমে মরিচ গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কাঁচা মরিচের সংকট আছে। আবার বৃষ্টি ও ঈদের কারণে ঢাকায় গাড়ি আসতে বাড়তি খরচ যোগ হচ্ছে।’

‘সব মিলিয়ে মরিচের দাম বাড়ছে। তবে ভারতীয় মরিচ ঢুকবে আগামী সপ্তাহ থেকে, তখন দাম কিছুটা কমবে।’

শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে,

‘দারুচিনি প্রতিকেজি ৬০০ টাকা, গোল মরিচ প্রতিকেজি এক হাজার টাকা, এলাচ মান ভেদে ১০০ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৮০ টাকায়।’

‘এদিকে আমদানি করা ইন্দোনেশিয়ার আদার দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা বেড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গুটি আদা বিক্রি হচ্ছে ৩৪০-৩৬০ টাকায়।’

‘এছাড়া লং (লবঙ্গ) প্রতিকেজি এক হাজার ৬০০ টাকা, ধনিয়া প্রতিকেজি ২৫০ টাকা,

তেজপাতা প্রতিকেজি ১২০ টাকা, দেশি শুকনা মরিচ প্রতি কেজি ৪০০- ৪৫০ টাকা এবং ২৫০ টাকায় প্রতিকেজি কাঁচা হলুদ বিক্রি হচ্ছে।’

‘এসবের পাশাপাশি জিরার দামও বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। প্রতিকেজি জিরা বর্তমানে এক হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।’

এসব পণ্যের এমন মূল্যের বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীদের দোষছেন ক্রেতারা। ক্রেতারা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়েছেন।

এনএএন টিভি