ইউক্রেনে স্টারশিল্ড সাময়িকভাবে ব্যাহত, তদন্ত করবে না পেন্টাগন

ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা ‘স্টারশিল্ড’ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার ঘটনায় কোনো তদন্ত পরিচালনা করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের (পেন্টাগন) পরিদর্শক বা ওয়াচডগ। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোশিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত বিস্ফোরক তথ্য।

সংবাদ সংস্থাটির বরাতে জানা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান) সমন্বয়ে গঠিত ৯ জন আইনপ্রণেতার একটি দল ইউক্রেনে স্টারশিল্ড সেবা ব্যাহত হওয়ার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে পেন্টাগন ওয়াচডগের কাছে সরাসরি তদন্তের আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে আইনপ্রণেতাদের সেই যৌথ চিঠির জবাবে প্রতিরক্ষা দফতরের ইন্সপেক্টর জেনারেল স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের উত্থাপিত প্রশ্ন ও উদ্বেগের সঠিক উত্তর মার্কিন বিমানবাহিনীর (ইউএস এয়ার ফোর্স) কাছে রয়েছে এবং এটি তাদেরই এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। পেন্টাগন ওয়াচডগের এই অবস্থানকে স্পেসএক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ককে সুরক্ষা দেয়ার এবং তদন্ত এড়ানোর সরাসরি চেষ্টা ও প্রত্যাখ্যান হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মার্কিন সেনেটররা।

উদ্বেগের সূত্রপাত ঘটেছিল যখন নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডেমোক্র্যাট সেনেটর জিন শাহিনের নেতৃত্বে ৯ জন সিনেটরের একটি দল পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কাছে একটি আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে ইউক্রেনীয় মিত্রদের ব্যবহৃত এবং মার্কিন সরকার দ্বারা রক্ষণাবেক্ষণ করা সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ‘স্টারশিল্ড’-এর আকস্মিক পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় একটি উচ্চপর্যায়ের ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়। দ্বিপক্ষীয় এই আইনপ্রণেতা গোষ্ঠীটি বিশেষভাবে দাবি জানিয়েছিল যেন ওয়াচডগ পেন্টাগন বা মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে চিহ্নিত করে যে, এই গতি ও পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে মার্কিন কোনো কর্মকর্তার অনুমোদন ছিল কি না কিংবা এই বিষয়ে আগে থেকে তাদের কোনো আগাম তথ্য বা জানাশোনা ছিল কি না।

চলতি বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সমস্যার সূচনা হয় , যখন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ অভিযোগ তোলে যে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স তাদের ফ্রন্টলাইনে থাকা ইউক্রেনীয় সেনাদের ব্যবহৃত স্টারলিংক ও স্টারশিল্ড টার্মিনালের ওপর একতরফা গতিসীমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইউক্রেনীয় সামরিক সূত্র থেকে দাবি করা হয়, নির্দিষ্ট সীমার উপরে, বিশেষ করে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে যান চলাচলকালে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন বা গতি সীমিত করে দেওয়ায় তাদের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান চরমভাবে বিঘ্নিত হয়।

 

 

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card