কর্ণফুলী নদী ও হালদা নদী দিয়ে প্রতিদিন ব্যাপক হারে চলছে কাঠ পাচার।
নদীর তীরে গড়ে ওঠা করাত কলে এসব কাঠ সাইজ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করছে অবাধে।
সরেজমিনে জানা যায়, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলার ঘাট, লাম্বুর হাট,
নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরী হাট, কচুখাইন এলাকায় ২০টির অধিক করাত কল রয়েছে। এছাড়া কর্ণফুলী
নদীর সাথে সংযুক্ত হালদা নদীর তীরে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন গনিমিয়ার ঘাট, উরকিরচর
ইউনিয়নের মদুনাঘাট এলাকায় রয়েছে আরো দশটি করাত কল ।
রাউজান উপজেলার কর্ণফুলী নদী ও হালদা নদীর তীরে গড়ে ওঠা করাত কল ছাড়াও রাউজানের হলদিয়া
আমির হাট, জানি পাথর, জগ্ননাথ হাট, চিকদাইর হক বাজার, গহিরা ইউনিয়নের দলই নগর, কাল চান্দ চৌধুরী
হাট, দক্ষিন সর্তা, রাউজান উপজেলা সদরের সাব রেজিষ্ট্রারের অফিসের পাশে, রাউজান পশু হাসপাতালে পূর্ব
পাশে রাউজান জলিল নগর বাস স্টেশন, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের ডোমখালী, কাগতিয়া বাজার, রাউজান
পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাইন্যা পুকুর, পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়ার হাট, পাহাড়তলী ইউনিয়নের
পাহাড়তলী চৌমুহনী, কদলপুর ইউনিয়নের সোমবাইজ্যা হাটের উত্তর পাশে, ৭নং রাউজান ইউনিয়নের রমজান
আলী হাট, নাতোয়ান বাগিচা, নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের নতুন হাট এলাকায় রয়েছে শতাধিক করাত কল।
করাত কলের কয়েকজন মালিক জানান, প্রতিদিন পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী, বড়ইছড়ি, কাপ্তাই,
রাজস্থলী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী পাহাড়ি এলাকা থেকে বিপুল পরিমান বৃক্ষ নিধন করে কর্ণফুলী নদী
দিয়ে বাশের চালার সাথে বেধে ও যান্ত্রিক নৌযানে করে কাঠ পাচার করছে অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ীরা। কর্ণফুলী
নদী দিয়ে পাচার করা কাঠের মধ্যে পার্বত্য এলাকার সংরক্ষিত বনের বৃক্ষ নিধন করা কাঠ বেশি।
এদিকে স্থানীয় পরিবেশবিদ শফিউল আলম অভিযোগ করেন, নদী ও সড়ক পথে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঠ
অবৈধভাবে পাচার করা হলেও সংশ্লিষ্টরা নিরবতা পালন করে আসছে। ফলে ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্য
রক্ষা করাসহ পরিবেশের জলবায়ুর উপরেও ক্ষতির সম্ভাবনা বিরাজমান।
এব্যাপারে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ইছামতি রেঞ্জ অফিসার খসরুল আমিন বলেন, রাউজানে লাইসেন্সধারী
করতকল রয়েছে ৩১ টি। লাইসেন্সবিহীন অবৈধ করাত কল কয়টি রয়েছে তা জানা নেই। কর্ণফুলী নদী দিয়ে
কাঠ পাচারের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের আওয়াতাধীন রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জসহ কয়েকটি বিট
অফিসের এবং সর্তাখাল দিয়ে কাঠ পাচারের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব সর্তা ফরেষ্ট বিটের। তার আওতাধীন
এলাকায় লাইসেন্সবিহীন যেসব অবৈধ করাত কল রয়েছে ঐ করত কলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে
বলে তিনি জানান।
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
- Click to email a link to a friend (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on X (Opens in new window)
