কক্সবাজারের চকরিয়ায় বড় বেওলা এলাকায় অভিযান করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা সন্ত্রাসীদের নিকট অস্ত্র সরবরাহকারী মূলহোতাসহ তিনজন অস্ত্র ব্যবসায়ীকে র্যাব-১৫ গ্রেফতার করেছে।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে র্যাব ১৫ কক্সবাজার ক্যাম্পের গণমাধ্যম শাখা বলেন, ইদানিং পরিলক্ষিত হচ্ছে,
কক্সবাজার এলাকায় বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সন্ত্রাসীদের নিকট থাকা অস্ত্রের উৎস উৎঘাটনের লক্ষ্যে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে।
এরই ধারাবাহিকতায় ৬ এপ্রিল সকালে র্যাব-১৫ কক্সবাজার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে,
কতিপয় অস্ত্র ব্যবসায়ী কক্সবাজার মহেশখালী হতে সিএনজি অটোরিকশা যোগে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে অস্ত্র সরবরাহের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেছে।
উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সদর এর একটি আভিযানিক দল
এদিন সকাল সাড়ে আটটার দিকে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের
ইলিশিয়া লাল ব্রীজ সংলগ্ন বিএম অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনের সামনে অস্থায়ী চেকপোষ্ট স্থাপন করে তল্লাশী অভিযান শুরু করে।
তল্লাশীর একপর্যায়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা চেকপোষ্টের সামনে পৌঁছলে র্যাব সদস্যরা থামার সংকেত দেয়ার সাথে সাথে
কতিপয় অস্ত্র ব্যবসায়ী র্যাবের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে চালকসহ
তিনজনকে র্যাব-১৫ কক্সবাজার এর আভিযানিক দল আটক করতে সক্ষম হয়।
আটককৃতরা হলেন ১। মোক্তার আহমদ (৫২), ২। আব্দুর রহিম (৪০), ৩। মোঃ এনামুল হক (৩৮)।
এ সময় তাদের অস্ত্র সরবরাহে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি তল্লাশী করে
চালক ও যাত্রীর আসনের নিচে বিশেষ ভাবে রক্ষিত অবস্থা হতে তিনটি একনলা বন্দুক,
একটি দু’নলা বন্দুকসহ ০৪টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং অস্ত্র বিক্রয়ের নগদ ১,০৫,৭০০/- (এক লক্ষ পাঁচ হাজার সাতশত) টাকা,
ব্ল্যাংক চেক , এটিএম কার্ড, এনআইডি কার্ড ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের গণমাধ্যম শাখার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের বিষয়ে আটককৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়,
তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন যাবৎ কক্সবাজার মহেশখালী ও চকরিয়া থানা এলাকায় গোপনে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
এছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যসহ বিভিন্ন দুষ্কৃতিকারীদের নিকট নিয়মিত অস্ত্র বিক্রয় করে আসছে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণার্থে চকরিয়া থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব ১৫ কক্সবাজার ক্যাম্পের গণমাধ্যম শাখা।

Comments are closed.