চলতি বছর এই আড়াই মাসে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২০ জন। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৬৬ জন। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন থেকে পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।
আসন্ন বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে রাজধানীসহ সারাদেশের ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণ করতে মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ গতবছরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি, আক্রান্তদের দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা দিতে দেশের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।
বৈঠকে মন্ত্রী আরও বলেন,
মেয়রদের একার পক্ষে সম্ভব না, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করা। প্রত্যেক বাড়িতে বাড়িতে নিজেদের খেয়াল রাখতে হবে পানি জমে যেন, এডিস মশার বিস্তার না ঘটে । হাসপাতালগুলোতে ওষুধ পর্যাপ্ত আছে, তবে আমাদের সচেতন হতে হবে। যে কোনো সময় আমি-আপনি যে কেউ আক্রান্ত হতে পারি। দেশটা আমাদের, তাই সম্মিলিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসা দরকার। যেভাবে আমরা সম্মিলিতভাবে মহামারি কোভিডকে একটা পর্যায়ে আনতে পেরেছি, ডেঙ্গুকেও নিয়ে আসতে পারবো। প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, মানুষকে সচেতন করতে হবে। ডেঙ্গু হলে অবহেলা না করে, দ্রুত চিকিৎসকের পরার্মশ নিন। অনেক সময় দেখা যায়, দেরি করে হাসপাতালে আসাতে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এই সচেতনতা আমাদের বাড়াতে হবে।
দেশে বহু বছর ধরে ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ থাকলেও, গতবছর আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। সরকারি তথ্যমতে, ২০০০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত গত ২৩ বছরে ডেঙ্গুতে ৮৬৮ জনের মৃত্যু হলেও, শুধুমাত্র ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১ হাজার ৭০৫ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা ছিল তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। এদিকে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৬৬ জন আক্রান্তের মধ্যে মারা গেছেন ২০ জন।
সবশেষ ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিটি এলাকায় উদ্যোগ নেয়ার কথাও বৈঠকে জানানো হয়।

Comments are closed.