দীর্ঘ ১০ ঘন্টা পর কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক

দীর্ঘ ১০ ঘন্টা পর কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। উভয় পার্শ্বে আটকা পড়া যানবাহন গুলো আস্তে আস্তে নিজেদের গন্তব্যে ছুটে যাচ্ছে। আন্দোলনরত শিক্ষকরা আগামীকাল চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধের ডাক দেন।

উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও পরিচালিত শিক্ষা প্রকল্প থেকে ১ হাজার ২৫০ শিক্ষককে ছাঁটাই করা হয়। তাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে সোমবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাত ৭ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের কোটবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষকরা।

স্থানীয় শিক্ষকদের প্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম শামীম বলেন, চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের পুনর্বহাল করা হোক এবং ক্যাম্পে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হোক।

দুপুর একটার দিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার সাইফুদ্দিন ঘটনাস্হলে আসেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশ সুপারের সাথে স্বাভাবিক বিষয় নিয়ে কথা হয়। এসময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেছেন দেড়শ শিক্ষক নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে শুনেছি। তবে কোন এনজিও নিবে জানা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও উখিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল সর্তক অবস্থানে ছিলেন ।

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা ইউনিসেফ চলতি বছরের জুনে ঘোষণা দেয়— তহবিল সংকটের কারণে কার্যক্রম সীমিত করা হচ্ছে।

এতে সাড়ে চার হাজার শিক্ষাকেন্দ্র থাকলেও এর কার্যক্রম কমিয়ে আনা হয়। প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় পর্যায়ের গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ ক্যাটাগরির ১ হাজার ১৭৯ জন শিক্ষক চাকরি হারান।

ইউনিসেফের কক্সবাজার কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা এঞ্জেলা কার্নে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এটি কোনো বৈষম্য নয়, বরং তহবিল সংকটের ফল। তবে শিক্ষকরা মনে করেন, বাংলাদেশি শিক্ষকদের বাদ দিয়ে রোহিঙ্গা শিক্ষকদের রাখার সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক।

ইউনিসেফের নতুন পরিকল্পনায় আর শেখানো হবে না ইংরেজি, বিজ্ঞান বা সামাজিক শিক্ষা।

এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে, বার্মিজ ভাষা, গণিত, জীবন দক্ষতা, সামাজিক মানসিক শিক্ষা। এই পাঠদান পরিচালনায় যুক্ত থাকবেন মূলত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শিক্ষকরা। এমনকি নতুন বই বিতরণের পরিকল্পনাও স্থগিত রাখা হয়েছে। পুরাতন বই ব্যবহার করতে হবে শিক্ষার্থীদের। এ কারণে রোহিঙ্গা শিক্ষকদের রেখে বাংলাদেশি শিক্ষকদের বাদ দেওয়া হয়েছিল।

এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় সমাজে ক্ষোভ বাড়িয়েছে। বহু শিক্ষক বেকার হয়ে পড়েছেন। আন্দোলনকারীরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘমেয়াদে যদি রোহিঙ্গা শিক্ষকদের প্রাধান্য দেওয়া হয় তবে স্থানীয়দের সম্পূর্ণভাবে এই কর্মক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এতে একদিকে সামাজিক ক্ষোভ বাড়বে, অন্যদিকে ক্যাম্পের শিক্ষা কার্যক্রমও প্রশ্নের মুখে পড়বে।

একজন শিক্ষক বোরহান উদ্দিনের বেদনা, “বিনা কারণে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হলো। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে দিশেহারা অবস্থায় আছি। এটা মানবিক সংকট।”

উখিয়ার ইউএনও মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘সমস্যাটি মূলত ইউনিসেফ ও আরআরআরসি’র সাথে আন্দোলনকারীদের। আমরা সমাধানে উদ্যোগ নিচ্ছি।’

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card