চার মাসের শিশুর লাশ উদ্ধার

চার মাস বয়সী শিশু আরিয়ানকে নিয়ে রাতে বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন মা–বাবা।

কিন্তু সকালে ঘুম ভেঙে দেখেন, শিশুটি বিছানায় নেই।

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশে একটি ডোবায় তার ভাসমান লাশ পাওয়া যায়।

পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

আজ শনিবার সকালে নেত্রকোনার সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের চৈয়ারগতি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আরিয়ানের বাবা জিহাদ মিয়া,

মা পান্না আক্তার ও দাদি শাহিনা আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,

জিহাদ মিয়া প্রায় দেড় বছর আগে বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের পান্না আক্তারকে বিয়ে করেন।

জিহাদ ট্রাকচালকের সহকারী হিসেবে কাজ করেন।

গতকাল শুক্রবার রাতে জিহাদ ও পান্না তাঁদের চার মাস বয়সী ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে ঘুমিয়ে যান।

পাশের একটি ঘরে জিহাদের মা শাহিনা আক্তার থাকেন।

শাহিনার স্বামী নুরুল ইসলাম সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী।

আজ সকাল ৬টার দিকে জিহাদ ও তাঁর স্ত্রী ঘুম ভাঙার পর দেখেন,

বিছানায় তাঁদের সন্তান নেই, ঘরের দরজাও খোলা।

পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশে একটি ডোবায় শিশু আরিয়ানের ভাসমান লাশ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন।

পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তিনজনকে আটক করে।

ঠাকুরাকোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিষয়টি খুবই রহস্যজনক ও মর্মান্তিক।

চার মাসের শিশু হাঁটতে বা হামাগুড়ি দিয়ে পারে না।

ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে পানিতে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করলেই রহস্য বেরিয়ে আসবে।

নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুল হক বলেন, বিষয়টির তদন্ত করা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

আশা করা যাচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।

আরও পড়ুন :

এনএএন টিভি