ভারতের সংঘর্ষ-বিধ্বস্ত মণিপুরে গত ৪মে দুই নারীকে বিবস্ত্র করে হাঁটানো হয়েছিলো, তাদের মধ্যে একজন চল্লিশোর্ধ নারী ছিলেন, তার স্বামী হলেন একজন সাবেক সেনা সদস্য।
ঘৃণ্যতম এই অপরাধের বিচার দাবি করে মণিপুরের সাবেক সেনা সদস্য বারবার বলছেন,
‘দেশকে বাঁচালাম। কিন্তু নিজের বাড়ি, স্ত্রী, গ্রামের মানুষগুলো— কাউকেই তো বাঁচাতে পারলাম না!’
জানা যায়, ভুক্তভোগী এই দম্পতির চার বছরের এক ছেলে আছে। সেদিনের ওই দুঃস্বপ্নের শেষে তিনজনের দেখাও হয়েছে আবার। কিন্তু এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেননি বছর চুয়াল্লিশের নির্যাতিতা।
ঘটনার দিন দুষ্কৃতীদের কাকুতি-মিনতি করে বলেছিলেন,
‘ছেলের মুখ চেয়ে তাকে যেনো ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন লোকগুলো বলেছিলো, ‘বাঁচতে হলে কাপড় খোল।’
ওই নির্যাতিতা জানিয়েছেন,
‘গত ৪মে মেইতেই জনতা কাঙ্গপোকপি জেলায় তাদের বি ফাইনম গ্রামের দিকে আসছে শুনেই কয়েক জন কুকি মহিলার সঙ্গে ছেলেকে জঙ্গলে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।’
‘স্বামী এবং নিজে যখন পালানোর চেষ্টা করছেন, তখনই দুষ্কৃতীরা আসে। দু’জনকে দু’দিকে নিয়ে চলে যায়।’
‘আমাকে বলা হলো, এক মেইতেই মহিলাকে নাকি আমাদের গোষ্ঠীর লোকেরা ধর্ষণ করেছে (একটি ভুয়া ভিডিও থেকে সেই গুজব ছড়ায়)।
তাই ওরাও আমাদের সঙ্গে একই কাজ করবে। আমার সঙ্গে আর একটি মেয়ে ছিলো। তার বাবাকে মেরে ফেলা হলো চোখের সামনেই।’
সেই ‘অন্য মেয়েটিকেও’ বিবস্ত্র করে হাঁটানো হয় সেদিন। মেয়েটির বাবা শুধু নন, কিশোর ভাইকেও খুন করে জনতা।
অপরদিকে, সেই ছেলেমেয়ের মা বলছেন,
‘বড় ছেলের চাকরি নেই। ছোট ছেলেটাই ছিল আশা। কষ্ট করে স্কুলে পাঠিয়েছিলাম। ওকে মারল, ওর বাবাকেও।
আমাদের সব শেষ। ঘর-জমি পুড়িয়ে দিয়েছে। কী করব আর গ্রামে ফিরে?’
সাবেক সেনার স্ত্রী জানান,
‘প্রায় হাজার লোকের ভিড় সেদিন যৌন নিগ্রহ করেছিল তাদের। শেষে বাঁচিয়েছিলেন কয়েক জন মেইতেই যুবকই।’
‘পোশাকের ব্যবস্থা হওয়ার পরে অন্য মেয়েটিকে তার বাবা আর ভাইয়ের দেহের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু দেহ উদ্ধার করা হয়নি।’
কার্গিলের যোদ্ধা বলছেন,
‘তার প্রাণ বেঁচেছিলো বরাতজোরে। হামলাকারীদেরই মধ্যে ছিল তার কয়েক জন বন্ধুর ছেলে। চিনতে পেরে তারাই তাকে পালিয়ে যেতে দিয়েছিল।’
‘এরপর জঙ্গলে তিনি খুঁজে পান স্ত্রী-সন্তানকে। কিন্তু এরপর কী হবে? সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পরে নিজের ব্যবসা শুরুর জন্য একটা মিনি ট্রাক কিনেছিলেন।’
‘সেই পোড়া ট্রাক এখন বাড়ির পাশে পড়ে রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে সাবেক সেনা সদস্যের এখন একটাই আর্জি, ‘সুবিচার দিন মেয়েদের’।

Comments are closed.