বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
সব শেষ গতকালের রিপোর্ট অনুযায়ী গত বুধবার এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ১৬০ জন রোগী।
যা চলতি মৌসুমসহ সাম্প্রতিক বছরে চিকিৎসাধীন সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগীর রেকর্ড।
গত মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন ছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫৫ জন।
এর আগে গত সোমবার চিকিৎসাধীন ছিলেন ১৩০ জন এবং রবিবার চিকিৎসাধীন ছিলেন ১১৫ জন রোগী।
এদিকে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ অব্যাহত থাকলেও রোগীদের সুযোগ সুবিধা কোন কিছুই বৃদ্ধি করা হয়নি।
নানা সংকট আর অভাব-অভিযোগের মধ্য দিয়ে অমানবিক পরিবেশে চিকিৎসা চলছে ডেঙ্গু রোগীদের।
রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়,
ওয়ার্ডগুলোতে ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ রোগী চিকিৎসাধীন।
রোগীর সঙ্গে দর্শনার্থীর ভীরের কারণে ওয়ার্ডগুলোতে পা পেলার জায়গা নেই।
নোংরা-অপরিচ্ছন্ন-দুর্গন্ধে অসহনীয় অবস্থা ওয়ার্ডগুলোতে।
পরীক্ষা নিরীক্ষা যাবতীয় সব কিছু বাইরে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক থেকে করাতে পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
গ্যাস্ট্রিক আর জ্বরের ওষুধ ব্যতিত অন্য ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয় অভিযোগ রোগীদের।
খাবার মানও যাচ্ছে তাই দাবি তাদের।
রোগীদের মশারী দেয়া হলেও তাদের অনেকেই ব্যবহার করেন না।
তাদের দাবি, ওয়ার্ডগুলোতে তেমন বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা নেই।
ভ্যাপসা গরম। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে ওয়ার্ডে মশারীর মধ্যে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন তারা।
এদিকে রোগীরা মশারী ব্যবহার না করায় স্বজনসহ ওই ভবনে চিকিৎসাধী মেডিসিন বিভাগের অন্য রোগীরা রয়েছেন চরম ঝুঁকিতে।
এদিকে গুরুতর ডেঙ্গু রোগী অর্থাৎ যাদের রক্তের প্লাটিলেট ভেঙ্গে যায় তাদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ
‘সেল সেপারেটর’ যন্ত্র আজ পর্যন্ত দেয়া হয়নি দক্ষিণের চিকিৎসা সেবার ভরসাস্থল শের-ই বাংলা মেডিকেলে।
এ কারণে রোগীর অবস্থা একটু খারাপ হলেই ঢাকায় প্রেরণ করেন তারা।
এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী কাজী মিজানুর রহমান বলেন, শেবাচিমে সব ধরনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন।
রোগী পরীক্ষা ও চিকিৎসার অনেক প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই।
এ কারণে অনেক রোগীকে ঢাকায় প্রেরণ করেন চিকিৎসকরা।
নিজ এলাকায় চিকিৎসা না পেয়ে ঢাকায় গিয়ে আরও অসহায় হয়ে পরেন দরিদ্র রোগীরা।
এ বিষয়ে হাসপাতলের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন,
বর্ধিত আড়াইশ’ শয্যা হাসপাতাল ভবনের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ওই ভবনের নিচ তলায় পুরুষ এবং নারীদের জন্য আরও দুটি বড় কক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
উপরের তলায় রোগীর স্থান সংকুলান না হলে নিচ তলায়ও ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হবে।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ‘সেল সেপারেটর’ যন্ত্র। যন্ত্রটি চেয়ে একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।
সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপার্টমেন্টে (সিএমএসডি) এই মুহূর্তে যন্ত্রটির সাপ্লাই নেই।
ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ রোগী থাকায় তারা নোংরা করে কর্মীরা পরিষ্কার করে।
সরকারী অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
