শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় যুদ্ধ অপরাধের দায়ে মোখলেছুর রহমান সাবেক মেয়র গ্রেফতার হয়েছে ।
ঘটনার সূত্রপাত প্রসঙ্গে জানা গেছে,
‘১৯৭১ সালে নকলা ইশিবপুর বড় মসজিদে নামাজ পড়ে থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়
শাজাহান আলী উরফে সাজু বিএকে পাক সেনারা ধরে নিয়ে নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সাবেক হাইস্কুল বন্দী করে রাখে।’
সে রাতেই তাকে হত্যা করে ইট ও চটের বস্তার সাথে স্ববর্নখালি নদীতে বাসিয়ে দেয়।
এই ঘটনায় ২০১৬ সালের আগষ্ট মাসে নকলা থানা আওয়ামীলীগের কোষাধক্ষ
সৈয়দ আলম মঞ্জু নিহত শাজাহানের ভাতিজা পাক সেনাদের সহযোগিতার দায়ে
নকলা থানার নকলা হাজী জাল মামুদ কলেজের বাংলা বিষয়ক অধ্যপক আমিনুল ইসলাম ফারুক, কুর্শা গ্রামের ডাক্তার মো: এমদাদুল হক খাজা মিয়া,
বিবিরচর গ্রামের তদকালিন কম্পিউটার অপারেটর টি এন্ড টি অফিস ও
সাবেক মেয়র কুশাবাদাগৈড়ের বাসিন্দা ময়েজ উদ্দিন সরকারের পুত্র মোখলেছুর রহমান তারাকে আসামি করে নকলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি চলা অবস্থায় খাজা ও ফারুককে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী আক্রামকে গ্রেফতার করা হয়।
এর মধ্যে, দীর্ঘদিন কারাভোগ করার পর ডাক্তার খাজা মিয়া জামিন থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে । আক্রাম হোসেন কারা ভোগ করার পর জামিনে রয়েছে।
আমিরুজ্জামান ফারুক শুরু থেকেই কারাগারে রয়েছে। মোখলেছুর রহমান তারা ২০১৬ সালে মামলা রুজু হওয়ার পর পলাতক ছিলো।
আজকে ২১ জুন ২০২৩ তারিখে ময়মনসিংহ সদর হেট কুয়াটার র্যাব ১৪ এর ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন মুক্তাগাছা থেকে তাকে গ্রেফতার করে নকলা থানায় সোপর্দ করেন ।
এ প্রসঙ্গে বাদী পক্ষ সৈয়দ আলম মঞ্জু বলেন, ‘তার চাচা শাজাহানকে হত্যা করে লাশ গুম করেছিলো।’
৪ দিন পর পঁচাগলা অবস্থায় বস্তাবন্দী থাকা লাশ স্বুবর্ণখালি নদী থেকে উদ্ধার করে কায়দা কবরস্থানে দাফন করে।
আসামী পক্ষের ৪ জনের মধ্যে মোখলেছুর রহমান তারা ও তার পরিবার দাবী করছে,
মোখলেছুর রহমান তারার জন্ম তারিখ ছিলো ৩১/১০/১৯৬০ এবং তার শিক্ষণীয় সকল সনদে বয়স নিবন্ধন করা আছে সেই বয়স অনুযায়ী ১০ বছর ২ মাস বয়স ছিলো ।
আমিনুজ্জামান ফারুকের বয়স ছিলো ১৪ বছর তখন তিনি জামালপুর জেলা স্কুলে ৯ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতেন ।
উল্লেখ্য, শামসুজ্জামান উরফে জামান মাষ্টার আমিনুজ্জামান ফারুকের পিতা যুদ্ধ অপরাধী ছিলো বিধায় তার পুত্র ফারুককে এই মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছিলো।
বাদী বলেন, আসামীরা প্রতুক্ষ্যভাবে তার চাচাকে পাকসেনাদের টর্চারে মেরে ফেলার জন্য বলে।
আসামীদের দাবি আমিনুজ্জামান ফারুক ও মোখলেছুর রহমান তখন কম বয়সী ছিলেন ।
এই মামলায় ৩২জন স্বাক্ষ্য মানা হয়েছে । তাদের মধ্যে কেউ কেউ কেন্দ্রীয় যুদ্ধ অপরাধ ট্রাইবুনালে গিয়ে স্বাক্ষ্য দিয়ে এসেছেন।
