পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ভারত ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার দুই দিনের মাথায় গত সোমবার বাংলাদেশের বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। নতুন শুল্ক আরোপের পেঁয়াজ এখনো বাজারে না এলেও স্থানীয় বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ২০ টাকা করে।
নারায়ণগঞ্জ নগরীরর প্রধান কাঁচা বাজার তথা দ্বিগু বাবুর বাজারের ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে, বাজারে গতকাল আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে।
মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) নগরীরর দ্বিগু বাবুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে দেশি পেঁয়াজ পাল্লা প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪২০-৪৪০ টাকা।
এছাড়া, ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের পাল্লা বিক্রি হচ্ছে ৩৪০-৩৫০ টাকায়।
বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন,
‘সরকারকে এখনই ভারতের বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে।’
‘বিকল্প হিসেবে মিয়ানমার, পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা যায়।’
‘বাজার স্থিতিশীল রাখতে পেঁয়াজের ওপর আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান তাঁরা।’
এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ভারত থেকে নতুন শুল্কের পেঁয়াজ আসতে সময় লাগবে আরো সাত দিন। তার আগেই বাজারে এমন আচরণ হতাশাজনক।
পেঁয়াজের দাম নিয়ে নগরীর চাষাড়ার বাসিন্দা রোকসানা শিউলি জানান,
‘ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা এমন পর্যায়ে গেছে, যেভাবেই হোক তারা শুধু লাভ চায়।‘
’ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে শুল্ক আরোপের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এখানে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই আচরণ খুরই দুঃখজনক।’
কৃষি অর্থনৈতিক বিশ্লেষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
‘পেঁয়াজ নিয়ে সব সময় সংকট তৈরি করা হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও ৩০০ ডলারের পেঁয়াজ ৮০০ ডলারে কিনতে বাধ্য করা হয়েছে।’
‘প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।’
‘এ জন্য পেঁয়াজ আমদানিতে ভারতের বিকল্প ভাবতে হবে। আর বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে নজরদারি বাড়াতে হবে।’
সাগর খান, নারায়ণগঞ্জ

Comments are closed.