জন্মগ্রহণ, শৈশব-কৈশোর জীবনের পুরোটাই বেড়ে ওঠা প্রত্যন্ত গ্রামে, আর সেই ছেলে এখন পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। বলা হচ্ছে, রেজাউল করিম রিপনের কথা; তিনি বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের শিক্ষার্থী।
জানা যায়, নোয়াখালীর এক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে রিপন ছোটবেলা থেকে বাবাকে কাছে পাননি। চাচার দিক নির্দেশনায় পড়াশোনা এগিয়ে নিয়েছেন।
কিন্তু তার স্বপ্ন ছিলো বড়। তাই করোনার সময়েও অনেক দূর থেকে পায়ে হেঁটে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অফিসে এসে কাজ করতেন।
সেই সময়টাতেই তিনি রিসার্চের কাজ করতেন। মূলত করোনার সময়টাকে কাজে লাগিয়েই তিনি হার্ভার্ড পড়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন,
আমাকে কেউ তেমন একটা চিনতো না। একা একা থাকতাম আর নিজের কাজে মনোযোগী ছিলাম।
করোনার সময়টাকে আমি ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছি। তখন সারাদিন রিসার্চের কাজ করতাম। বিদেশে পিএইচডি করার ইচ্ছে ছিলো আগে থেকেই। কিন্তু হার্ভার্ডে সুযোগ পেয়ে যাবো কখনো ভাবিনি।
কী দেখে হার্ভার্ড শিক্ষার্থী নেয় এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,
‘আমার অনেকগুলো ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে রিসার্চ পেপার ছিলো। ভালো এসিপি ছিলো।’
‘ভালো রিকমেন্ডেশন লেটার ছিলো। আমি গণিত অলিম্পিয়াড করতাম, এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিজে অংশ নিতাম।’
‘যেমন হেল্থ লিডার অর্গানাইজেশন, অ্যামেরিকান পাবলিক হেল্থ অর্গানাইজেশনসহ আরও অনেকগুলোতে কাজ করেছি।’
‘এসবের কারণেই আমার হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে এপ্লাই করলে পরের বছরের মার্চ মাসে জানতে পারেন যেন তার হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ হয়েছে।
দুবছরের জন্য হার্ভার্ডে প্রায় দুই কোটি টাকার মতো খরচ হয়। কিন্তু হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ রিপনকে স্কলারশিপ দিবে। এবং কিছু টাকা ঋণ দিবে।
তাছাড়া সেখানে রয়েছে খন্ডকালীন রিসার্চার হয়ে কাজ করার সুযোগ। এজন্য তার নিজের বাড়ি থেকে তেমন টাকাও নিতে হচ্ছে না।
পড়াশোনা শেষে বাংলাদেশে আবার ফিরে আসতে চান রিপন। দেশের জন্য কাজ করতে চান।
স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রতিষ্ঠান তৈরি করে দেশের মানুষের পাশে থাকতে চান গ্রামে বড় হওয়া এই স্বপ্ন বালক।
