সাতক্ষীরা থেকে টাঙ্গাইলে বন্ধুর বাড়িতে এসে এক কিশোরী (১৬) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলের বাসিন্দা নাজমুল হোসেন (২০) নামে এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে এসে প্রথমে মধুপুর ও পরে পাশের জামালপুর সদর উপজেলার সীমানায় গণধর্ষণের শিকার হয় ওই কিশোরী।
শুক্রবার (৫ মে) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত চার যুবক তাকে ধর্ষণ করে বলে জানিয়েছে ওই কিশোরী।
পুলিশ অভিযুক্ত ওই চার যুবককে আটক করেছে। আটক সবাই কিশোরীর বন্ধু নাজমুলের স্বজন ও পূর্ব পরিচিত।
আটকরা হলেন-
মধুপুর উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়নের বাগাডোবা গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে সজীব মিয়া (২৮),
কাইলাকুড়ি (কামারতাফাল) গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে হাফিজুর রহমান (৩৮) এবং
জামালপুর সদরের রশিদপুর ক্ষেত্রীপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মামুন (২৬)
এবং রশিদপুর ভাটিপাড়ার মৃত রুহুল আমিনের ছেলে হাফিজুল ইসলাম (৩০)।
ওই কিশোরী মধুপুর উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়নের বাগাডোবা গ্রামের মোস্তফার ছেলে নাজমুলের বন্ধু।
তাদের সম্প্রতি প্রেমের সম্পর্ক হয়েছে। নাজমুল সজিবের চাচাতো ভাই।
শুক্রবার দুপুরে কর্মস্থল থেকে নাজমুলের বাড়িতে আসার পথে জামালপুরের রশিদপুর চৌরাস্তা থেকে নাজমুলের পক্ষে সজিব ও হাফিজুর তাকে মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে আনতে যায়।
দুপুরে রওনা দিয়ে সজিবের বাড়িতে না নিয়ে বিভিন্ন দিক ঘুরিয়ে বিকালে মধুপুর উপজেলার চাঁদপুর
রাবার বাগানের কালাপাহাড় এলাকার বনে নিয়ে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার পর দুজনে ধর্ষণ করে।
ঘটনা প্রকাশ করলে জীবননাশের হুমকি দেয়। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আবার রশিদপুর চৌরাস্তায় মোবাইলসহ রেখে যায়।
নাজমুলকে বিষয়টি বললে সে কিশোরীকে অপেক্ষা করতে বলে।
এসময় বাজারে অবস্থান করা মামুন সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এসে সাতক্ষীরায় পাঠানোর কথা বলে দিগপাইত নিয়ে যায়।
দিগপাইতে খাওয়ার সময় নাজমুল মোবাইলে ফোন করে তার অবস্থান জেনে আবার রশিদপুর ফিরে আসতে বলে।
ওই কিশোরীকে মামুন আবার অটো নিয়ে রশিদপুরের দিকে ফেরার পথে রশিদপুরের কাছাকাছি এসে একটি বাড়িতে নিয়ে ঢুকে।
সেই বাড়ি থেকে হাফিজুল যোগ দেয়। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে রশিদপুরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সর্দারবাড়ি এলাকার ধানক্ষেতে নিয়ে দুজনে ধর্ষণ করে।
এ সময়ও ধর্ষণকারীরা তার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে বন্ধ করে দেয়। পরে রশিদপুর-তুলসীপুর সড়কে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।
ওই কিশোরী এ সময় নাজমুলের সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিজের অবস্থান জানায়।
নাজমুল মোটরসাইকেল নিয়ে এসে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে মধুপুরের ফুলবাগচালা ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ আলীর কাছে হাজির হয়। চেয়ারম্যান দ্রুত তাদের থানায় পাঠিয়ে দেন।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল আমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
তিনি জানান, ওই কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটকদেরও আলাদাতে সোপর্দ করা হয়েছে।
