জীবনকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রতিদিনই মানুষ ছুটে চলে আপন আপন পথে। কেউ অফিসে, কেউ কারখানায়, কেউ বা ক্ষেতে। কিন্তু সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের সিপাইপাড়ার মোর্শেদুল ইসলামের পথচলা একটু আলাদা। জীবিকার সন্ধানে তিনি গত ২২ বছর ধরে হাতে তুলে নিয়েছেন এক ডালির ভ্রাম্যমান দোকান।
ডালিটিতে কখনো সাজানো থাকে মৌসুমি ফল, কখনো আতব চাল, শুঁটকি, আদা কিংবা রসালো আম। পণ্য বদলায়, মৌসুম বদলায়, কিন্তু বদলায় না তার সংগ্রাম আর ঘামে ভেজা পথচলা।
মাত্র ২৫ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। সময়ের স্রোতে সেই পুঁজি কখনো বেড়েছে, কখনো কমেছে। তবু তিনি থেমে যাননি। অল্প টাকায় ব্যবসা করে লাভ-ক্ষতির দোলাচলে থেকেও রোদ-বৃষ্টি, ঝড়-ঝাপটা উপেক্ষা করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতেই ছুটে চলেছেন আজও।
দুই ছেলে, এক মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালান তিনি। তাদের প্রতিটি দিন টিকে আছে তার এই অবিরাম পরিশ্রমের ওপর।
মোর্শেদুল ইসলামের জীবন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন—সৎপথে থেকে শ্রম দিয়েই জীবনকে সুন্দর করা যায়। তার সংগ্রামী পথচলা কেবল তার পরিবারের নয়, সমাজের তরুণ প্রজন্মের জন্যও হয়ে উঠতে পারে অমূল্য অনুপ্রেরণা।
সত্যিই, মোর্শেদুল প্রমাণ করেছেন—অধ্যবসায় আর সততার মিশেলে ক্ষুদ্র ডালিও হতে পারে আশার আলোকবর্তিকা।