টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ধলেশ্বরী নদীর মাটি লুটের মহোৎসব চলছে। উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের এলাসিন শামসুল হক সেতুর উভয় পাশ, এমনকি সেতুর নিচ থেকেও মাটি কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে প্রায় শতকোটি টাকায় নির্মিত ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত সেতু।
জানা গেছে, এলাকাবাসীর অনেক প্রত্যাশিত ধলেশ্বরী নদীর ওপর ৫১৫.১২ মিটার দীর্ঘ সেতুটি ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার নির্মাণ ব্যয় ছিল ৯৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আজ সেই কাঙ্ক্ষিত সেতুটি কিছু স্বার্থান্বেষী লোকের কারণে ঝুঁকির মুখে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাসিন গ্রামের মনির হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন, হবি মোল্লা, সাদেক মোল্লা, রুবেল, শাহিন, শামিমসহ ১৫-২০ জনের একটি সিন্ডিকেট এ মাটি লুটের সঙ্গে জড়িত। তারা রাত দিন ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক ট্রাক্টরের মাধ্যমে মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে দিচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রসঙ্গে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেই মাটি কাটা হচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে লিখলে কিছুই হবে না।
মনির হোসেন বলেন, আমরা এলাকার মানুষের রেকর্ডকৃত জমি থেকে মাটি কিনে বিক্রি করছি।
তবে সেতুর নিচের জমি কি পাবলিক রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি— এমন প্রশ্নে নীরব থাকেন মনির।
এ ব্যাপারে এলাসিন ইউপি চেয়ারম্যান মানিক রতন বলেন, ধলেশ্বরী নদীর শামসুল হক সেতুসংলগ্ন এলাকায় মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতরা খুবই প্রভাবশালী। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিষেধ করা হলেও তারা মানছেন না।
এলাসিন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সাহাদত হোসেন বলেন, ধলেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনকারীদের বারবার নিষেধ করা হলেও তারা নিষেধ মানে না। বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অবহিত করা হয়েছে।
দেলদুয়ার থানার ওসি (তদন্ত) মো. আরমান আলী বলেন, থানা ম্যানেজ করে নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মাটি উত্তোলনের বিষয়ে আমার জানা নেই।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুচি রানী সাহা বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমেই জানলাম। অবৈধভাবে নদীর মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
