রাজশাহীর বাঘায় ছেলের হাতে বাবা হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১২ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় বাঘা থানার পুলিশ উপজেলার চক আমোদপুর গ্রামের
শহিদুল ইসলামের পুকুর পাড় থেকে আজিজুল আলম আস্তুলের (৫৭) লাশ উদ্ধার করে।
সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনায় পিতাকে হত্যার সন্দেহে তার ছেলে সনি (২৫) হোসেনকে আটক করা হয়।
এ ব্যাপারে বাঘা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেছে বাঘা থানা পুলিশ সূত্র।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজিজুল আলম আস্তুল চক আমোদপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব প্রামাণিকের ছোট ছেলে।
লাশের সন্ধান মিললে বিষয়টি বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল ইসলামকে অবহিত করা হয়।
তিনি পুলিশের সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
বাঘা থানার ওসি (তদ্ন্ত) আব্দুল করিম বলেন, অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করি।
সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সনির ঘর থেকে রক্তমাখা প্যান্ট উদ্ধার করা হয়। হত্যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
জানা যায়, ১৯৯৮ সালে আজিজুল আলম আস্তুল তার স্ত্রী পারুল বেগমকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন।
এই হত্যা মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের করোনাকালীন সরকার বিশেষ ব্যবস্থাপনায় মুক্তি দেয়।
মুক্তি পেয়ে তিনি বছর দুয়েক আগে বাড়িতে আসেন। তারপর তিনি পাগলের মতো এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াতেন এবং মানুষের কাছে টাকা-পয়সা চাইতে শুরু করেন।
চক্ষুলজ্জার একপর্যায়ে দুই ছেলে ফারুক হোসেন ও সনি হোসেন তাদের বাবাকে বাড়িতেই আটকে রাখতেন।
মাসখানেক আগে ঘরের জানালা ভেঙে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। তারপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
শুক্রবার সকালে একই গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে খায়রুল ইসলাম পুকুরের ধার দিয়ে যাওয়ার পথে লাশটি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন।
পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আজিজুল আলম আস্তুলের লাশ শনাক্ত করেন।
পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ বিষয়ে বাঘা থানার ওসি খায়রুল ইসলাম বলেন, লাশের মাথা, মুখ, চোখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
তার ছেলে সনি হোসেনকে হত্যার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে সনির ঘর থেকে রক্তমাখা প্যান্ট উদ্ধার করা হয়।
