প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম ও তার স্বামী জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন লিমেটেডের চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম, তার স্বামী তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, ‘সাঈদা মুনা ও তৌহিদুল ইসলাম একে অপরের সঙ্গে যোগসাজশ করে জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন লিমিটেডসহ আরও ১২টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও ভুয়া সংগঠনের নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেন।’
তৌহিদুল ইসলাম জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানটির পাশাপাশি আরও ১২টি নামসর্বস্ব ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়ে বিদেশে অর্থ পাচার রা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ (১৬ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, ‘সাঈদা মুনা ও তৌহিদুল ইসলাম একে অপরের সঙ্গে যোগসাজশ করে জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন লিমিটেডসহ আরও ১২টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও ভুয়া সংগঠনের নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সেই অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়।’
তিনি জানান, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ইউসিবিএল, ব্যাংক এশিয়া, ইবিএল, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, এনবিএল, ট্রাস্ট ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক এবং এবি ব্যাংক।
সাইদা মুনা তাসনিম যুক্তরাজ্যে হাইকমিশনারের নিয়োগ পাওয়ার আগে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কূটনীতিক হিসেবে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও লন্ডন মিশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিসিএস (পররাষ্ট্র ক্যাডার) ১১তম ব্যাচের কর্মকর্তা সাইদা মুনা তাসনিমের গত ২৬ ডিসেম্বর অবসরোত্তর ছুটি শুরু হয়েছে। তার আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তাঁকে লন্ডনের দায়িত্বভার ত্যাগ করে অনতিবিলম্বে ঢাকায় ফেরার আদেশ দিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু তিনি আর ঢাকায় ফেরেননি।
গাজীপুরের ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকার এজেজে প্যাকেজিং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার সুজিত চন্দ্র দেবনাথ আনুষ্ঠানিকভাবে দুদকের কাছে এ সংক্রান্ত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তৌহিদুল ও তার সহযোগীরা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল), ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল), সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড (এনবিএল), ট্রাস্ট ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ও এবি ব্যাংকসহ অন্তত নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ভুয়া বা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে অন্তত দুই হাজার টাকা ঋণ নেন।
অভিযোগের পর দুদকের মানি লন্ডারিং ইউনিট তদন্ত শুরু করে। তদন্ত দলের নেতৃত্বে আছেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অনুসন্ধান শুরু করেছি। অভিযোগের প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
