ঈদুল ফিতরের পর বাজারে নতুন করে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম বাড়ছে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবেই এক মাসের ব্যবধানে মানভেদে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ২০ টাকা।
পিছিয়ে নেই আদা–রসুনের দামও।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্ধ আছে পেঁয়াজ আমদানি। তাতে দামে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
আর ডলার–সংকটে ঋণপত্র (এলসি) খোলা কমে যাওয়া এবং আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় আদা ও রসুনের দাম বাড়তির দিকে।
টিসিবি বলছে, বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়।
এক মাস আগেও এই পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা। এক মাসে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ।
আর পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকলেও ব্যবসায়ীদের কাছে আমদানি করা যে পেঁয়াজ ছিল, তা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি।
এক মাসের ব্যবধানে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৯ শতাংশ।
প্রসঙ্গত, কয়েক বছর ধরে দেশে পেঁয়াজের ফলন ভালো হলেও এবার কম হয়েছে। এ ছাড়া পেঁয়াজ ওঠানোর পর এবার পচনের হারও বেশি ছিল।
দেশের কৃষকদের সুরক্ষা দিতে পেঁয়াজের আমদানিও বন্ধ। সামনে আসছে কোরবানির ঈদ।
সব মিলিয়ে পেঁয়াজের বাজার বাড়তে শুরু করেছে। তবে আমদানির অনুমতি দিলে, বাজার দ্রুত নেমে আসবে বলে মনে করেন আমদানিকারকেরা।
আদা ও রসুনের বাজারও বাড়তি। টিসিবির হিসাবে, ঢাকার বাজারে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি।
এক মাসের ব্যবধানে দেশি রসুনের দাম বেড়েছে ৭২ শতাংশ। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা।
তবে বাজারে এই রসুনের দাম কেজিতে আরও ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দেখা গেছে।
আর টিসিবির দর অনুযায়ী আমদানি করা চীনা আদার দাম গত এক মাসে বেড়েছে ২৮ শতাংশ। কেজিতে সর্বোচ্চ দাম পড়ছে ৩২০ টাকা।
পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে দাম আরও কিছুটা বেশি—৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি।
আর দেশি আদার সামান্য যা বাজারে আসে, এর কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা। আদার বাজার প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর।
এদিকে সরকার নতুন করে সয়াবিনের দাম নির্ধারণ করেছে। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম ১২ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৯৯ টাকা।
তাতে মানুষের সংসার খরচ আরেক দফা বেড়েছে। চিনির বাজারের অস্থিরতা কাটছেই না।
সরকার নির্ধারিত ১০৪ টাকা দরের চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়।
ইউটিউবে ভিডিওটি দেখতে লিঙ্কে ক্লিক করুন : https://youtu.be/0Ql5yarRdaY

Comments are closed.