নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বাবাকে গলা কেটে হত্যার পর লাশ মাটি চাপা দেওয়ার অভিযোগে ছেলে আরমান শাহকে (২৩) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
রোববার (৭ মে) দুপুরে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বিষয়টি জানিয়েছেন।
এর আগে, শনিবার (৬ মে) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব ১৪-এর একটি দল।
আরমান শাহ নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বড় বেথাম গ্রামের আবুল শাহর ছেলে।
র্যাব-১৪ সূত্রে জানা যায়,
গত ১৮ মার্চ রাতে আরমান শাহ তার বাবা আবুল শাহকে (৫৫) নিজ বাসায় গলা কেটে হত্যা করে।
পরে বন্ধু আশিকুর রহমান আবিরকে নিয়ে লাশ লুকানোর বিষয়ে গভীর রাত পর্যন্ত পরিকল্পনা করে।
দুজনে মিলে লাশ পুড়িয়ে ফেলা বা দূরে কোথাও নিয়ে গিয়ে ফেলে দেওয়ার কথা ভাবে।
পরে লোকজন দেখে ফেলবে সেই চিন্তায় বাড়ির পাশের সাপমরা খালে কোদাল দিয়ে গর্ত করে গলা পর্যন্ত মাটির নিচে পুঁতে রাখে লাশ।
পরে উপরের জমিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি খালে ছেড়ে দেওয়া হয়। যাতে করে লাশ পানিতে তলিয়ে যায়।
এদিকে আবুল হোসেনকে খুঁজে না পেয়ে দুইদিন পর থানায় বিষয়টি অবহিত করেন তার ভাই হিরা শাহ।
পুলিশ বিষয়টি আমলে নিয়ে আরমানের বন্ধু আবিরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
আবিরের দেওয়া তথ্যে খালের পাড় থেকে মাটিতে পোঁতা অবস্থায় আবুল শাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত আবুল শাহর স্ত্রী রুপবাহার, মেয়ে চিন্তা মনি ও আবিরকে আটক করে পুলিশ। এ সময় আরমান পালিয়ে যায়।
পরে নিহতের বড় ভাই সোহরাব শাহ বাদী হয়ে আরমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব আরও জানায়,
গ্রেফতারের পর আরমান হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আরমানের নামে মোহনগঞ্জ থানায় হত্যা, দস্যুতাসহ চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, আরমান এরআগেও একবার তার বাবাকে হত্যা করতে চেয়েছিল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার এসআই কানাই লাল চক্রবর্তী বলেন,
আরমানকে রোববার বিকালে আদালতে পাঠানো হয়। আরমান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
