ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী এলাকায় অবস্থিত সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের সামনে শাহ ফরিদ হাউজিং কোম্পানির নাহার গার্ডেন আবাসন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ফরিদপুর জেলা প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছে। প্রশাসন নির্মাণের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ নেয়।
গত বৃহস্পতিবার ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান সরেজমিনে গিয়ে নির্মাণকাজের অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্র তলব করেন। জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের নির্দেশ অমান্য করে একই দিন রাতের অন্ধকারে ভবনের ছাদে শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে ইউএনও ইশরাত জাহান নেতৃত্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি), কোতোয়ালি থানা পুলিশ এবং বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা উপস্থিত হয়ে ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ সময় বিদ্যুৎ লাইনের তারও জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় ফরিদপুরের আলোচিত ভূমি ব্যবসায়ী ওমর আলী খান, যিনি শাহ ফরিদ হাউজিং কোম্পানির মালিক, এর আগেও নানা অভিযোগের শিকার হয়েছেন। একাধিক অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে, যেখানে রাজনৈতিক প্রভাব ও অবৈধ সুবিধা গ্রহণের কথাও বলা হচ্ছে। এর আগে মিরপুর মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
শাহ ফরিদ হাউজিং কোম্পানির মালিকানাধীন শহরের কেন্দ্রীয় ‘ওমর শপিং কমপ্লেক্স-২’ ভবনে আড়ং আউটলেটও রয়েছে, যা শহরের ব্যস্ততম স্থানে অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই ভবনটি নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানা হয়নি, যার কারণে এলাকায় যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।
সম্প্রতি, জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে জেলা যুব দলের ব্যানার ও ফেস্টুন বিনষ্ট করার অভিযোগে ওমর আলী খানের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশিত হয়।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান বলেন, “জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বলেছিলাম। নির্দেশ অমান্য করে তারা কাজ চালিয়ে যাওয়ায় আমরা তা বন্ধ করে দিয়েছি এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
অভিযানের সময়, ভবনের মালিক মো. ওমর আলী খান উপস্থিত ছিলেন না এবং তার মোবাইলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
শরিফুল ইসলাম / এনএএন টিভি
