দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নারায়ণগঞ্জবাসীর বহুল প্রতীক্ষিত হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ফেরীঘাট অংশে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জনাব আবুল কালাম জাতীয় সংসদে এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ নোটিশ উত্থাপন করেছেন।
সোমবার রাতে এমপি আবুল কালামের রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবুল কাওসার আশা নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ সংক্রান্ত একটি সরকারি নথির ছবি পোস্ট করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বন্দর ও নারায়ণগঞ্জ সদর এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে।
সংসদে উত্থাপিত নোটিশে (নোটিশ নং- ৬৯৩) সংসদ সদস্য জনাব আবুল কালাম উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি ঐতিহ্যবাহী শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড় জুড়ে বিস্তৃত। পশ্চিম পাড়ে নারায়ণগঞ্জ সদর এবং পূর্ব পাড়ে বন্দর উপজেলা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১১টি ওয়ার্ড (১১ থেকে ২৭নং) অবস্থিত। এই অঞ্চলের প্রায় ৫ লাখ মানুষ প্রতিদিন দৈনন্দিন কাজের জন্য ৫টি খেয়াঘাট দিয়ে নদী পারাপার হন। ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নদী পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটে।
নোটিশে আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, বিগত ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই ‘হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ খেয়াঘাট অংশে সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেনি।
সংসদ সদস্যের এই নোটিশের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব শেখ রবিউল আলম সংসদে একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে মন্ত্রী জানান:নদীর প্রশস্ততা ও বর্তমান অবস্থা: হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ফেরীঘাট অংশে শীতলক্ষ্যা নদীর প্রশস্ততা প্রায় ৩৫০.০০ মিটার। বর্তমানে এখানে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে ফেরী অপারেশন চালু রয়েছে। এই স্থানে সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ফিজিবিলিটি স্টাডি (Feasibility Study) এবং ডিটেইল ডিজাইন (Detailed Design) প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রাথমিক কাজগুলো সম্পন্ন হওয়ামাত্রই প্রকল্পের ডিপিপি (Development Project Proposing) তৈরির কাজ শুরু করা হবে।
বর্তমান সরকারের আমলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া শেষ করে মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।সেতুটি নির্মিত হলে নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে, কমবে যানজট এবং ত্বরান্বিত হবে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
