ঈদের পর কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের শেয়ার বাজার। এ সময় অধিকাংশ কার্যদিবসেই বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। তবে ‘ভালো’র পাশাপাশি ‘মন্দ’ কোম্পানির শেয়ারদরও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। গতকাল বুধবারও শেয়ার বাজারে লেনদেনে ‘মন্দ’ কোম্পানির দাপট ছিল।
গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে তার থেকে বেশি। এমন বাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে মন্দ বা বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে না পারা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫টিই ‘জেড’ গ্রুপের। এর মধ্যে শীর্ষ তিনটি এসব কোম্পানির দখলে রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে না পারায় জেড গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলো দাপট দেখানোর সপ্তাহে সব থেকে বড় দাপট দেখিয়েছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। ২০২০ সালের পর থেকে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে না পারা এই কোম্পানিটি গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের কাছে আগ্রহের শীর্ষে চলে আসে। এতে একদিকে কোম্পানিটির শেয়ারের ক্রেতা বেড়ে যায়, অন্যদিকে শেয়ার বিক্রির চাপ কমে যায়। ফলে সপ্তাহজুড়েই কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে।
এমনকি প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দাম বাড়ার শীর্ষ স্থানটিও দখল করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দুই বছর পর কোম্পানিটি বিদেশে জাহাজ রপ্তানি করতে যাচ্ছে। মূলত এই কারণেই কোম্পানিটি ঘিরে এক ধরনের চাহিদা তৈরি হয়েছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহজুড়ে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের শেয়ার দাম বেড়েছে ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ২ টাকা ৮০ পয়সা।
এতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সম্মিলিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ৬৫ কোটি ৮৫ লাখ ৭০ হাজার ৫৫৩ টাকা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ২০ পয়সা, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ছিল ৬ টাকা ৪০ পয়সা।
শেয়ারের এমন দাম বাড়া কোম্পানিটি ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের দশমিক ৫ শতাংশ নগদ ও আড়াই শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেয়। তার আগে ২০১৯ সালে ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার, ২০১৮ সালে ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার, ২০১৭ সালে ৩ শতাংশ নগদ ও ১২ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এভাবে প্রতি বছর বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়ে কোম্পানিটি শেয়ার সংখ্যা বাড়িয়েছে। তবে ২০২০ সালের পর বিনিয়োগকারীদের আর লভ্যাংশ দিতে পারেনি।
২৩৫ কোটি ২০ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ২৩ কোটি ৫২ লাখ ৩ হাজার ৭৬৯টি। এর মধ্যে ৩০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ আছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৫৪ দশমিক ৩১ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে এবং ১৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে।

2 Replies to “‘মন্দ ‘কোম্পানির শেয়ারদরও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে”
Comments are closed.