রফতানিযোগ্য মাংসের আচার তৈরি করতে ভারত থেকে মহিষের মাংস এবং পেঁয়াজ আমদারি করে সাভারের ভার্কুতাভিত্তিক মেডলাইফ প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
তবে এখন পর্যন্ত এসব আমদানি করা পণ্য ছাড় দিতে পারেনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
পেঁয়াজ আমদানির আইপি বা ইমপোর্ট পারমিট বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের
(বিডা) কাছে থেকে অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল হিসেবে পেঁয়াজ আমদানি করে মেডলাইফ প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ।
তবে মহিষের মাংস আমদানি করার ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে অনুমোদন নেয়ার বিধান থাকলেও,
এই মাংস আমদানিতে কোনোরূপ পূর্ব অনুমোদন নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি।
যার পরিপ্রেক্ষিতে সেই মাংস ছাড় না দিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।
একই সঙ্গে অনুমতি না থাকায় হিলি স্থলবন্দর প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টিন কর্তৃপক্ষের কাছে থেকেও কোনো ছাড়পত্র পায়নি মেডলাইফ প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ।
এ প্রসঙ্গে হিলি স্থলবন্দরের প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন,
‘মাংস আমদানির বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কোনো অনুমতি নেয়নি মেডলাইফ প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ। সে কারণে আমরা কোয়ারেন্টিন সনদ দেইনি।
মাংস ছাড় না দেওয়ার জন্য গত সোমবার (১৫ মে) রংপুর বিভাগীয় কাস্টমস কমিশনার বরাবর আমাদের মহাপরিচালকের দফতর থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’
তবে এক মাসের মধ্য যদি কোনো সমাধান না হয়, তবে সরকার এসব মহিষের মাংস অনুকূলে নিয়ে যে কোনো কিছু করতে পারে বলেও জানান তিনি।
এদিকে আচার তৈরি করতে কাঁচামাল হিসেবে ভারত থেকে মহিষের মাংস
ও পেঁয়াজ আমদানি করলেও এই প্রতিষ্ঠানের আচার তৈরির কোনো সক্ষমতা নেই।
পাশাপাশি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটির পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতিরও ঘাটতি রয়েছে।
এমন তথ্য জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ কাস্টমসের কর্তৃপক্ষের কাছে দিয়েছে ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন।
এ বিষয়ে ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণ প্রাণী আছে।
মাংসের কোনো অভাব বা ঘাটতি নেই। তবুও ভারত থেকে মহিষের মাংস আমদানি করেছে মেডলাইফ প্যাকেজিং।
আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এই প্রতিষ্ঠানের মাংসের আচার উৎপাদনের কোনো সক্ষমতা নেই।
