ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা অভিনয়শিল্পী ধানুশ ও রাশমিকা মান্দানা। ‘কুবেরা’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন তারা। অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার এ সিনেমা পরিচালনা করেছেন শেখর কামুলা। কয়েক দিন পরই মুক্তি পাবে সিনেমাটি।
মুম্বাইয়ের একটি মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি পেয়েছে ‘কুবের’ ছবির তৃতীয় গান ‘পিপ্পি পিপ্পি দম দম দম’। গান মুক্তির অনুষ্ঠানে দক্ষিণ থেকে উড়ে এসেছিলেন ধানুশ, রাশমিকা, নাগার্জুন আক্কিনেনি। শেখর কমুল্লা পরিচালিত সামাজিক থ্রিলার ছবিটিতে জুটি বেঁধে আসতে চলেছেন ধানুশ ও রাশমিকা।
আরও আছেন নাগার্জুন, জিম সরাভ আর দলীপ তাহিল। গান মুক্তির আসরে শিল্পীদের সবাই উপস্থিত ছিলেন। ‘কুবের’ ছবিটি করার কারণ জানতে চাওয়া হলে রাশমিকা বলেন, ‘শেখর স্যার আর ধানুশের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলাম। আর তাই এ ছবিটি করতে রাজি হয়েছিলাম।’
রাশমিকা ছবিতে নিজের অভিনীত চরিত্রের প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘কখনো হতে হয় গীতাঞ্জলি (‘অ্যানিমেল’), কখনো আবার শ্রীবল্লি (‘পুষ্পা’), আবার কখনো এই চরিত্র। সত্যি বলতে এ ধরনের চরিত্রে আমি আগে কখনো অভিনয় করিনি। নিজেকে পুরোপুরি পরিচালকের কাছে সমর্পণ করেছিলাম, আর এখানেই ছবির আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে। প্রত্যেক পরিচালকের নিজস্ব দর্শন থাকে। আর তাই আমি এত ভিন্ন ভিন্ন আর মজার চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পাই। আমি এ জন্য সব সময় কৃতজ্ঞ।
এ প্রসঙ্গে রাশমিকা বলেন, ‘আবর্জনার স্তূপের মধ্যে আমি আর ধানুশ স্যার ৬-৭ ঘণ্টা শুট করেছিলাম। এই অভিজ্ঞতা আমাদের এক অন্য দুনিয়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়েছিল। আমাদের সবার চোখ খুলে দিয়েছিল। ছবিতে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল। শেখর স্যার আসল লোকেশনে শুট করতে বেশি পছন্দ করেন। ক্যামেরা ধরে ছুটতে ছুটতে তিনি শট নেন। আমরা মনিটর পর্যন্ত দেখার সুযোগ পাই না।’
ধানুশ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ছয় ঘণ্টার বেশি আস্তাকুঁড়ে শুট করেছিলাম। তবে রাশমিকার একদমই কোনো সমস্যা হয়নি। এমনকি ও কোনো রকম বাজে গন্ধ পায়নি বলে জানিয়েছিল। যাহোক, আমার জন্য খুবই কঠিন ছিল। তবে কোনো সমস্যা হয়নি। এই ছবির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা দুর্দান্ত। আর প্রতিটি অভিজ্ঞতা আপনাকে নতুন কিছু শেখায়।’
এরপর গম্ভীর কণ্ঠে ধানুশ বলেন, “আমি অনেক খবর পড়েছি। যেখানে বলা হয়েছে, ‘মাস্ক পরে আমরা শুটিং করেছি। এটা তেমন কোনো বড় ব্যাপার ছিল না।’ কিন্তু পৃথিবীর অন্য পাশটিও দেখুন; যা আপনি আবিষ্কার করতে পারেননি। আপনি সবসময়ই আপনার আরামদায়ক জায়গায় থাকেন, যেখানে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন; যা সুবিধাজনক তাই করেন। আপনি নিরাপদে থাকার জন্য এটা করে থাকেন। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ খুবই নিরাপদে আছেন।”
আমি সেখান থেকে এসেছি। আমি খুব বিনয়ী, আমি রুট থেকে শুরু করেছি। ঈশ্বরের কৃপায় আমি এখানে এসেছি। আমি তা দেখেছি। সেই পৃথিবী পুনরায় দেখার জন্য সেখানে ফিরে যাওয়া খুবই জ্ঞানগর্ভ এবং স্মৃতিকাতর ব্যাপার। আমাকে আমার শৈশবে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সত্যিই এই সিনেমার প্রতি কৃতজ্ঞ।” বলেন ধানুশ।
টাইপকাস্টিং (একইরকম চরিত্র) থেকে কীভাবে নিজেকে দূরে রেখেছেন? এ প্রশ্নের জবাবে ধানুশ বলেন, “আমি ঠিক প্রসেসরের মতো। কম্পিউটার। আমি খুব বেশি পরিশ্রম করি না। আপনার ঠিকমতো তথ্য দরকার। আমার পরিচালকরা আমাকে তথ্য দিয়েছেন। তারা যে কাজ করেন তার বেশিরভাগই আমি এটিকে প্রক্রিয়া করি। আমি কেবল একজন প্রসেসর। আমি যে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তার সবই তাদের কৃতিত্ব।”
নিজের অভিনীত চরিত্রের প্রসঙ্গে এই দক্ষিণি তারকা বলেন, ‘ছবিতে আমি এক ভিখারির চরিত্র করেছি। এই প্রথম এ ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলাম। এ জন্য প্রচুর গবেষণা আর হোমওয়ার্ক করেছি। চড়া রোদে দাঁড়িয়ে থাকতাম। এ সবকিছু মিথ্যা (সশব্দে হেসে)। আমি কিছুই করিনি। আমি শুধু শুটিংস্থলে যেতাম। আর আমার পরিচালক শেখর স্যার যা বলতেন, মেনে চলতাম। তিনি পরিচালক হিসেবে দুর্দান্ত।’
নাগার্জুনের সঙ্গে কাজ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, ‘নাগ স্যারের সঙ্গে কাজ করতে আমি দারুণ ভালোবাসি। তাঁর সঙ্গে এটা আমার দ্বিতীয় প্রকল্প। তিনি পরিশ্রম না করেও এত সুন্দর পারফর্ম করেন, দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। তিনি ছবিটা দেখে আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন, এটা আমার জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত।’ এদিকে ধানুশের প্রশংসা করে রাশমিকা বলেন, ‘ধানুশ স্যার অত্যন্ত সাবলীলভাবে সবকিছু করেন। তাঁর ১০ শতাংশ হওয়ার জন্য আমাকে কঠিন পরিশ্রম করতে হবে।’
নাগার্জুনের গলায়ও ঝরল রাশমিকার প্রশংসা। দক্ষিণি এই তারকা বলেন, ‘রাশমিকা প্রতিভার পাওয়ার হাউস। গত তিন বছর দুর্দান্ত সব কাজ করেছে ও। তার সব ছবি ২-৩ হাজার কোটি রুপি ব্যবসা করে। ও আমাদের সবার থেকে ভালো। ও অত্যন্ত পরিশ্রমী। আমি ডাবিং থিয়েটারে বসেই ফোন করে ওর প্রশংসা করেছিলাম। ও পর্দায় এলে দর্শকের মুখে হাসি ফোটে। এই ছবির অংশ হওয়ার জন্য ওকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
কুবেরা’ সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন— নাগার্জুনা আক্কিনেনি, ধানুশ, রাশমিকা মান্দানা। সামাজিক গল্পের সিনেমাটি আগামী ২০ জুন বিশ্বব্যাপী মুক্তির পরিকল্পনা করেছেন নির্মাতারা। সিনেমাটির বাজেট ধরা হয়েছে ৮০-১২০ কোটি রুপি।
রাশমিকার ঝুলিতে আছে ‘পুষ্পা’, ‘অ্যানিমেল’, ‘ছাবা’র মতো ব্লকবাস্টার ছবি। তাঁকে এখন ভারতীয় ছায়াছবির এক নম্বর অভিনেত্রী বলা হচ্ছে। এক নম্বর অভিনেত্রী হওয়ার চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সবে শুরু করেছি। তাই আমি এই এক নম্বর হওয়ার চাপ বুঝতেও পারছি না। আমি শুধু এটুকু জানি যে আমি এখন শিখছি। আমি দক্ষিণ, বলিউড সর্বত্র কাজ করছি, এখনো অনেক কিছু শেখার বাকি আছে।’
