১৯৪৪ সালে জন্মগ্রহণ করা এই অভিনেতা জাম্বু নামেই ছোট বড় সবার কাছে পরিচিত হলেও মূল নাম সুখলাল বাবু।
জন্ম ও পৈতৃক স্থান পুরান ঢাকার হাজারিবাগের গণকটুলি সিটি কলোনিতে। মেথরপট্টি হলেও আজিমপুরের ভাটা মসজিদের পাশেই চারতলা বাড়িতে থাকতেন তিনি।
বাবুল গোমেজ নামে এন্ট্রি হন প্রথমে এফডিসিতে। পরে পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু তার নাম দেন জাম্বু।
বাবুল গোমেজ থেকে জাম্বু হয়ে উঠার প্রসঙ্গে নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বলেন,
‘সেটা ১৯৭২ সালের ঘটনা। আমি তখন পপুলার স্টুডিওতে লিডার সিনেমার শুটিং করছিলাম।
এটা বাংলাদেশের প্রথম পরিচালক আব্দুল জব্বার খানের স্টুডিও ছিল।
শুটিং চলাকালীন দেখি একটা ছেলে আসছে লম্বা চওড়া জিজ্ঞেস করলাম নাম কী?
বললো, বাবুলাল। জিজ্ঞেস করলাম অভিনয় করবে? সে বললো, হ্যাঁ করবে।
জাম্বুর প্রথম অভিনয় প্রসঙ্গে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বলেন,
‘সিনেমাটিতে আসলে মারপিটের একটা দৃশ্য আছে। বিপরীত দলে বাবুলালের মতো একটা ছেলে থাকলে ভালো হয়। আমি ওকে শর্ত দিলাম মাথা ন্যাড়া করে অভিনয় করতে হবে।
সে বললো তাই করবে। এরপর মাথা ন্যাড়া করে দিলাম। সত্যি তাঁকে এবার বড়সড় একজন মাস্তান লাগছিল। আমি ওর নাম দিলাম জাম্বু।’
উল্লেখ্য, সাদাকালো সময় থেকে শুরু করে রঙিন পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে বহু সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
এর মধ্যে ঐতিহাসিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’র মোহাম্মদী বেগ চরিত্র। সেই চরিত্রে জাম্বু ছিল উপযুক্ত।
এছাড়া, ‘রাজলক্ষী শ্রীকান্ত’র অর্জুন সিং চরিত্রেও বেশ সফল হয়েছিলেন তিনি।
তবে সবচেয়ে বেশি তাকে দেখা যেত বস্তি আক্রমণ, সওদা করে খুন, মূল খলনায়কের সহকারী প্রভৃতি ভূমিকায়।
জাম্বু অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে- ‘সাগর ভাসা’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘রক্তের দাগ’, ‘শীষনাগ’, ‘হাসান তারেক’, ‘নির্দোষ’, ‘হাবিলদার’, ‘সাগরিকা’, ‘নির্মম’ ইত্যাদি।
শক্তিমান এই অভিনেতার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,
বড় ছেলে ডায়মন্ড একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। ছোট ছেলে সাম্বু বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাত্রায় অভিনয় করেন।
