তরুণীদের কাছে আজকের প্রেরণা এবং তরুণদের কাছে অনিন্দ্য মহিয়সী সুন্দরী তিনি। বয়স বাড়লেও রূপের ঝলকানি যেনো একটুও কমেনি তার। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের ‘বিউটি অব বাংলা সিনেমা’ খ্যাত নন্দিত চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা কথা।
পুরো নাম দিলারা হানিফ রীতা হলেও সবার কাছে তিনি পূর্ণিমা নামেই পরিচিত ও জনপ্রিয়।
চলতি বছরেই ক্যারিয়ারের ২৫ বছর পূর্ণ হলো তার। দীর্ঘ এই সময়টাতে কুড়িয়েছেন অগণিত ভক্তদের ভালোবাসা।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে ‘মনের মাঝে তুমি’ খ্যাত এ নায়িকা বলেন,
‘অপ্রাপ্তি নিয়ে কিছু বলতে চাই না। প্রাপ্তি নিয়ে যদি বলি, অনেক কিছু পেয়েছি। এখনো যে মানুষ আমাকে ভুলে যায় নি, এটাই তো অনেক।’
‘এখনো দর্শকরা মনে রেখেছেন, ভালোবাসা দিচ্ছেন। তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’
তিনি আরও বলেন,
‘এ বছরই তো আমার ক্যারিয়ারের ২৫ বছর পূর্ণ হল। আমি তো খুব বেশি ছবি করিনি।
‘আমার হিসেবে মতে ৮২ কিংবা ৮৩টা ছবি মুক্তি পেয়েছে আমার। অভিনয় করেছি ৮৭টি ছবিতে। এর মধ্যে কিছু মুক্তি পায়নি।’
‘আর নাটক করেছি ১০০ এর মত, বিজ্ঞাপন হবে ৫০টা। শো উপস্থাপনা তো একশোরও বেশি হবে।’

‘ক্যারিয়ার অনুযায়ী আমার ছবির সংখ্যা অনেক কম কারণ আমি অনেক বেশি ছবি করিনি। খুব বেছে বেছে কাজ করেছি।’
মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে পূর্ণিমা অভিনীত তিনটি সিনেমা। একটি ওবায়দুল কাদেরের উপন্যাস অবলম্বনে ‘গাঙচিল’ এবং অন্যটি ‘জ্যাম’।
আরেকটি সরকারি অনুদানে নির্মিত ছটকু আহমেদের পরিচালনায় ‘আহারে জীবন’। তবে সিনেমাগুলো কবে নাগাদ মুক্তি পেতে পারে এখনো নিশ্চিত নয়।
উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জন্মগ্রহণ করা পূর্ণিমার শৈশব সেখানে কাটলেও কৈশোরে চলে আসেন ঢাকায়।
নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে নাম লেখান রূপালী পর্দায়। ‘শত্রু ঘায়েল’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু তার।
১৭ বছর বয়সে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মধ্য দিয়ে নায়িকা হিসেবে ঢালিউডে অভিষেক ঘটে; যেটি মুক্তি পায় ১৯৯৮ সালে।
প্রথম সিনেমাতেই নায়ক হিসেবে পেয়ে যান সেই সময়ের হার্টথ্রব রিয়াজকে।

বাজিমাত করে বসেন প্রথম ছবি দিয়েই। ফটিকছড়ির রীতা একটু একটু করে হয়ে উঠেন আজকের পূর্ণিমা।
কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভাল হতে দিলো না’ ছবির জন্য ২০১০ সালে পূর্ণিমা সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন।
এছাড়াও পূর্ণিমা সেরা অভিনেত্রী হিসেবে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার পেয়েছে দুইবার- মনের মাঝে তুমি (২০০৩), হৃদয়ের কথা (২০০৬) সিনেমা দিয়ে।
ব্যক্তিগত জীবনে ২০০৭ সালের ৪ নভেম্বর পারিবারিকভাবে আহমেদ জামাল ফাহাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন পূর্ণিমা।
২০১৪ সালের ১৩ এপ্রিল তার কোলজুড়ে আসে এক কন্যাসন্তান; নাম আরশিয়া উমাইজা।
ফাহাদের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর গত বছরের ২৭ মে আশফাকুর রহমান রবিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন পূর্ণিমা।
স্বামী সংসার নিয়ে এখন বেশ আনন্দেই দিন কাটাচ্ছেন নায়িকা।
