ভাওয়াইয়া গানের রানী হিসেবে খ্যাত রংপুরের জনপ্রিয় শিল্পী শরীফা রাণী আর নেই।
বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলী রিং রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালি….উন)।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মরহুমার আত্মীয় সাংবাদিক আলী আখতার গোলাম কিবরিয়া।
এর আগে, শরীফা রাণী গত দুদিন আগে তাঁর রক্তচাপ প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এলে তাঁকে অচেতন অবস্থায়
দ্রুত রাজধানীর শ্যামলী রিং রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে আইসিইউতে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি অচেতন অবস্থায় থেকেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, শরীফা রাণীর জন্ম ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের ৯ জুন, বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন থেকে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। গত ৮ বছর ধরে ডায়ালাইসিস নিচ্ছিলেন।
শরীফা রাণী বিয়ের পর ১৯৭৪ থেকে স্বামী প্রকৌশলী নুরুন্নবীর সঙ্গে রাজধানীর আগারগাঁও তালতলায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের এক মেয়ে, দুই ছেলে এবং নাতি-নাতনি রয়েছে।
ঢাকায় থিতু হওয়ার পর ১৯৭৭/৭৮-এ বেতার ও টেলিভিশনে গান গাওয়া ছেড়ে দেন শরিফা।
এরপর তিনি সংসার ও ধর্মকর্মে নিজেকে যুক্ত রাখেন। এছাড়া, শরীফা রাণী হজব্রত পালন করেছেন।
তিনি নীলফামারী জেলার কৃতি সন্তান গীতিকার, সুরকার ও গায়ক মহেশ চন্দ্র রায়ের ‘কানিচাত গাড়িনু আকাশি আকালি / আকালি ঝুমঝুম করে রে বন্ধুয়া / আকালি ঝুমঝুম করে….’-
এই গানটি মুক্তিযুদ্ধের আগে রংপুর বেতারে পরিবেশন করে সেই সময় আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন।
অর্ধ শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও তাঁর সেই সুরেলা গায়কি প্রতিভাকে আজও কেউ অতিক্রম করতে পারেনি।
তাঁর কণ্ঠে মিশে থাকতো রংপুরের সোঁদা মাটির আমেজ আর এ অঞ্চলের মানুষের নির্মল ভাবাবেগ।
তাই আজও ভাওয়াইয়ার এই কিংবদন্তি শিল্পীকে কেউই ভুলে যায়নি। ‘কানিচাত গাড়িনু’ গানটি আজও শহরে কিংবা গ্রামে অত্যন্ত মমত্ববোধের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
আরও পড়ুন:
- জানাজায় যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় শ্বশুর-জামাইয়ের প্রাণহানি
- বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বাড়তে পারে
- ‘আব্বুকে মেরে ফেলছে কাশেম জেহাদী’
- কুমিল্লায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা নিহত
- সংগীতশিল্পী ন্যানসির জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার চুরি!
- আগামী মে মাসে সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির পূর্বাভাস
- চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে
এন এ এন টিভি
