ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন কতটা বাস্তব ইরানের শাসন পরিবর্তনে

ইরানে পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক নেতৃত্ব লক্ষ্য করে সম্প্রতি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু রাখঢাক না করেই ইরানি জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইরানে বর্তমান সরকার পরিবর্তন করা কি এত সহজ? এ প্রতিবেদনে আমরা দেখব, কীভাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ, ইরানের ইতিহাস এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি একত্র হয়ে বর্তমান সংঘাত তৈরি করেছে। কেন তেহরানে সরকারের হঠাৎ পরিবর্তন ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রায় অসম্ভব।

ইরান ও ইসরায়েলের শত্রুতা নতুন কিছু নয়। কয়েক দশক ধরেই দুই দেশ স্থল, সমুদ্র, আকাশপথ ও সাইবারজগতে আক্রমণ করাসহ একে অপরের বিরুদ্ধে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে আসছে। এসব সংঘাত তাদের সম্পর্ককে আরও বৈরিতার দিকেই ঠেলে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুন ইসরায়েল প্রকাশ্যে হামলা চালিয়েছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে।

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক এ হামলার দৃশ্যত লক্ষ্য ছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত ও সম্ভাব্য পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা নস্যাৎ করা। তবে হামলার বিস্তার, লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন ও ইসরায়েলি রাজনীতিকদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, এটি শুধু সামরিক লক্ষ্য নয়। তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটিতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করা। অনেক রাজনৈতিক ভাষ্যকারের মত, একই লক্ষ্য তেল আবিবের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রেরও।

কিন্তু ইরানে বাইরের চাপে সরকার পরিবর্তনের ইতিহাস মোটেও সুখকর নয়। ১৯৫৩ সালে মার্কিন ও ব্রিটিশদের সহযোগিতায় ইরানের প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল। এরপরও ইরান চরমভাবে পশ্চিমা শক্তির প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব দেখিয়েছে, দেশটির অভ্যন্তরীণ শক্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্ব সহজে নড়ানো যাবে না।

ইসরায়েলের হামলার সময় পারমাণবিক স্থাপনার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা, সেনা কমান্ডের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি ও পরমাণুবিজ্ঞানীদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে দেশের ভেতরে ও আঞ্চলিক মিত্রদের আস্থা নষ্ট করতে চেয়েছে; যেন এটি বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসি’র কর্মকর্তা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনে কাজ করা মাইকেল সিং বলেন, ‘ইসরায়েল আশা করছে, এ হামলার ফল হবে ইরানে সরকার পরিবর্তন। তারা চায়, দেশটির জনগণও নিজেরাই উঠে দাঁড়াক।’ হামলার প্রথম দফায় বেসামরিক প্রাণহানি সীমিত রাখা হয়েছে, যা ইসরায়েলের বৃহত্তর উদ্দেশ্য প্রকাশ করে।

ইরানে হামলা শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর দেশটির জনগণের উদ্দেশে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘প্রায় ৫০ বছর ধরে “ইসলামিক শাসন” আপনাদের ওপর অত্যাচার চালিয়ে আসছে। এটি আমাদের রাষ্ট্রকেও ধ্বংসের হুমকি দিচ্ছে। আমরা যখন আমাদের লক্ষ্য অর্জন করছি, তখন আপনাদের স্বাধীনতার পথও পরিষ্কার করছি। আপনাদের এখন উঠে দাঁড়ানোর সময়, নিজেদের কণ্ঠস্বর শোনান।’

 

এনএএন টিভি