মানবজাতির সম্মানহানি হয়, এমন এআই তৈরি করা যাবে না: পোপ
পোপ চতুর্দশ লিও শুক্রবার সতর্ক করে বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)’র ব্যবহার তরুণদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে এবং বাস্তবতা উপলব্ধির ক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে।
গত ৮ মে ক্যাথলিক গির্জার প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে গণিতে স্নাতক ডিগ্রিধারী পোপ লিও নিয়মিতভাবে এআই সম্পর্কিত ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন। তবে এবারই প্রথম তিনি শুধু এআই নিয়ে বক্তব্য রাখলেন।
প্রযুক্তির উৎকর্ষ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে মানুষের মতো বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে অনেক কাজ করে দিচ্ছে মেশিন। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছেন পোপ লিও চতুর্দশ। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু বলেছেন, এমন এআই তৈরি করতে হবে, যাতে মানবজাতির কোনো সম্মানহানি না হয়।
শুক্রবার বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীদের এক সম্মেলনে এই বার্তা পাঠিয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ। তিনি বলেছেন, এআই তৈরির ক্ষেত্রে মানবজাতির কল্যাণের বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। এটা শুধু বস্তুগত নয়; বরং বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকেও হতে হবে।
ভ্যাটিকান সিটি থেকে এএফপি জানায়, রোমে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় এআই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে এক লিখিত বার্তায় পোপ বলেন, আমরা সবাই শিশু ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে, বিশেষ করে, এআই’র ব্যবহার তাদের মানসিক ও স্নায়ুবিক বিকাশে কী প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
শীর্ষ প্রযুক্তি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শিশুরা ঈশ্বর প্রদত্ত যে প্রতিভা ও সক্ষমতা পায়, তা বিকাশের সুযোগ দেওয়ার ওপর সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ নির্ভর করে।’
পোপ বলেন, এখন এআই-এর মাধ্যমে যতো দ্রুতগতিতে তথ্যপ্রাপ্তি সম্ভব, কোনো প্রজন্মেরই এ সুযোগ ছিল না। তবে মনে রাখতে হবে, তথ্যপ্রাপ্তি যতো ব্যাপকই হোক, তাকে কখনোই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
স্বাস্থ্যসেবা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এআই’র সম্ভাবনার প্রশংসা করলেও এর প্রভাব নিয়ে পোপ বলেন, এটি মানুষের বাস্তবতা অনুধাবনের বিশেষ ক্ষমতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পোপ লিও নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ডিপফেক ভিডিও ও অডিওর শিকার হয়েছেন।
এএফপি’র এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইউটিউব ও টিকটকে এমন বহু চ্যানেল রয়েছে, যেখানে পোপের কণ্ঠ বা চেহারা নকল করে ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায় এআই-নির্ভর ভুয়া বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
এদিকে রয়টার্স ইন্সটিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব জার্নালিজম-এর এক জরিপে দেখা যায়, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে খবর পড়ার ক্ষেত্রে চ্যাটবট ব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
পোপের পূর্বসূরি ফ্রান্সিসের সময় থেকেই ক্যাথলিক গির্জা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে নৈতিক চিন্তাভাবনা ও নীতিমালা প্রভাবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
২০২০ সালে ভ্যাটিকান স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষার ওপর জোর দিয়ে ‘রোম কল ফর এআই এথিকস’ নামে একটি নৈতিক নীতিমালা প্রস্তাব করে। মাইক্রোসফট, আইবিএম, জাতিসংঘ, ইতালি এবং বিশ্বের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এটি স্বাক্ষর করে।
পোপ আরও বলেছেন, কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহার থাকলেও এটাকে আত্মস্বার্থে ও অন্যদের ক্ষতি করার জন্য অপব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
