‘গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প’

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানির সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বুধবার (১৬ জুলাই) এই বৈঠক হবে বলে এক এক্স/টুইটার বার্তায় নিশ্চিত করেছেন মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক বারাক রাভিদ। বৈঠকে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির পাশাপাশি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক নিয়ে আলোচনা হতে পারে। খবর রয়টার্সের।

বারাক রাভিদ জানিয়েছেন, গত সোমবার (১৪ জুলাই) কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। ওই ফোনালাপের ধারাবাহিকতায় এবার কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বৈঠকে গাজা যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি নতুন পারমাণবিক চুক্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টা নিয়েও তারা আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বৈঠকটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে তা স্পষ্ট করেননি বারাক রাভিদ।

গাজায় যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে কাতারের দোহায় গত ৬ জুলাই থেকে ইসরাইল ও হামাস প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। কাতার এই আলোচনায় একটি প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের কর্মকর্তারা একটি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি প্রস্তাব, যার আওতায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, পর্যায়ক্রমিকভাবে বন্দিমুক্তি, গাজার কিছু অংশ থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধাবসানের বিষয়ে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উভয় পক্ষই আলোচনায় অচলাবস্থার কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, কাতারে চলমান আলোচনার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। তবে ইসরাইল তাদের সেনা কতটা এবং কীভাবে প্রত্যাহার করবে সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।

এদিকে গাজায় ইসরাইলের বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (১৬ জুলাই) ৬৪৯তম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। হামলায় সকাল থেকে অন্তত ৩৭ জন নিরীহ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফলে মোট হতাহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ৪৭৯ জনে।

গত প্রায় ২০ মাসের সামরিক আগ্রাসনে গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। উপত্যকাজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট।