স্ত্রীর গায়ের রঙ কালো। এ কথা বলে লক্ষ্মীকে অপদস্ত করতেন স্বামী কিষাণদাস। শেষ পর্যন্ত তার স্ত্রী লক্ষ্মীকে গায়ের রঙের কারণে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেন কিষাণদাস।এ মামলায় তার বিরুদ্ধে শাস্তি হিসেবে ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। ঘটনাটি ভারতের। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি ব লেছে, মৃত্যুর আগে দেয়া বিবৃতিতে লক্ষ্মী জানিয়েছেন- তার স্বামী কিষাণদাস নিয়মিত তাকে ‘কালো’ বলে কটাক্ষ করত। উত্তর ভারতের উদয়পুর শহরের জেলা জজ রাহুল চৌধুরী ফাঁসির রায় ঘোষণা করে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ‘বিরল ঘটনার মধ্যেও বিরল’ শ্রেণিতে পড়ে। এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
লক্ষ্মীর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বামী সেই তরল তার শরীরে মাখায়। যখন তিনি বলেন এর গন্ধ অ্যাসিডের মতো, তখন কিষাণদাস আগরবাতি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। লক্ষ্মীর শরীরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে সে বাকিটুকু তরল ঢেলে পালিয়ে যায়। পরে কিষাণদাসের বাবা-মা ও বোন তাকে হাসপাতালে নেয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়। রায়ে বিচারক চৌধুরী লিখেছেন- এমন হৃদয়বিদারক নৃশংস অপরাধ কেবল লক্ষ্মীর বিরুদ্ধে নয়, মানবতার বিরুদ্ধেও অপরাধ। তিনি আরও বলেন, কিষাণদাস স্ত্রীর বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছে এবং তাকে জ্বলন্ত অবস্থায় বাকি তরল ঢেলে অত্যন্ত নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে। এটি এমন এক অপরাধ, যা মানবতার বিবেককে নাড়িয়ে দেয়, যা সুস্থ ও সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না। সরকারি কৌঁসুলি দিনেশ পালিওয়াল এ রায়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করে বিবিসিকে বলেন, তিনি আশা করেন এটি সমাজের অন্যদের জন্যও শিক্ষা হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, একজন কুড়ির কোঠায় তরুণীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি কারও বোন, কারও মেয়ে, যাকে ভালোবাসা মানুষ ছিল। যদি আমরা আমাদের মেয়েদের বাঁচাতে না পারি, তাহলে কে পারবে? পালিওয়াল আরও জানান, তিনি হাইকোর্টে রায় পাঠিয়েছেন ফাঁসির দণ্ড নিশ্চিত করতে, তবে দোষীর কাছে আপিল করার জন্য ৩০ দিন সময় রয়েছে। কিষাণদাসের আইনজীবী সুরেন্দ্র কুমার মেনারিয়া বিবিসিকে বলেন, লক্ষ্মীর মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত এবং তার মক্কেলের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই। মিথ্যাভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
