জি সেভেন সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি, তেহরানে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে বিস্ফোরণের ঘটনা
ঢাকা, ১৭ জুন ২০২৫ — যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রাজধানী তেহরানের বাসিন্দাদের শহর ছেড়ে চলে যেতে বলার কিছুক্ষণ পর থেকেই তেহরানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যেতে থাকে। জি সেভেন সম্মেলনে কানাডায় অবস্থানকালে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। এরপর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পঞ্চম দিনের মতো হামলা-পাল্টা হামলা চলছিল, এবং এই সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্পের তেহরান ছাড়ার নির্দেশ আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে মন্তব্য করেন যে, “সবার অতিস্বত্তর তেহরান ছেড়ে যাওয়া উচিৎ।” তিনি আরও বলেন, “ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।” জি সেভেন সম্মেলনের জন্য সোমবার কানাডায় থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন বলে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।কানাডায় জি সেভেন সম্মেলনে মি. ট্রাম্প ওই মন্তব্য করেন।
আর তারপরই ইরান আর ইসরায়েলের মধ্যে পঞ্চম দিনের মত যখন হামলা-পাল্টা হামলা চলছে, তখন সংঘাত ছাপিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ওই বার্তা উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে।
কানাডায় অবস্থানকালে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এমনও ইঙ্গিত দেন যে, ইসরায়েল ও ইরান শীঘ্রই সমঝোতায় আসতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি ইরানকে ৬০ দিন সময় দিয়েছিলাম পরমাণু চুক্তিতে আসার জন্য। আর ৬১তম দিনে কী হলো, আপনারা সবাই দেখেছেন।”
গতকালও তেহরানের একটি বড় অংশের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে “অবিলম্বে” অন্যত্র সরে যেতে বলেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী (আইডিএফ)।
তবে, তিনি এও জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে ‘অতিরিক্ত সেনা উপস্থিতি’ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত জানানো হলেও তা কেবলমাত্র ওই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের ‘সুরক্ষা’ নিশ্চিত করার জন্য করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার তার করা এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে নিরস্ত করার জন্য ওয়াশিংটন থেকে একটি ফোনকলই যথেষ্ট।
তবে, কূটনৈতিকভাবে সংঘাত থামানোর নানা প্রচেষ্টা চলতে থাকলেও ইসরায়েল আর ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মিসাইল ও বিমান হামলা থামছে না।
সোমবার রাতে তেহরানের বেশ কিছু এলাকাসহ ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে হামলা করে ইসারয়েলি বাহিনী।
টানা ইসরায়েলি হামলা আর শহর ছেড়ে যাওয়ার হুমকি জারি থাকায় সোমাবার দুপুর থেকেই তেহরান ছেড়ে যেতে থাকে হাজার হাজার মানুষ।
সোমবার রাতে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক জ্যামও দেখা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন ছাড়াও পশ্চিম ইরানের দুটি মিসাইল ঘাঁটিতে হামলা করেছে ইসরায়েল।
অন্যদিকে ইরানও ইসরায়েলের বড় শহরগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
আজ মঙ্গলবার ভোরেও তেল আভিভ, জেরুসালেমসহ ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি শহরে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে।
ইসরায়েল-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে ইসরায়েলে অবস্থানরত নাগরিকদের ‘যত দ্রুত সম্ভব’ সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীনা দূতাবাস।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস জানায়, “চীনের সব নাগরিককে অনুরোধ করা হচ্ছে, তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে যেন স্থল সীমান্ত দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব ইসরায়েল ত্যাগ করে।”
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “জর্ডানের দিকে রওনা দেওয়াই সবচেয়ে ভালো বিকল্প।”
চীনা দূতাবাস সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।
“বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বাড়ছে, আর নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি হচ্ছে,” বিবৃতিতে বলা হয়।
বিশ্ব নেতারা এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।
এখন পর্যন্ত ইরান বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এই বিস্ফোরণ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এবং আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
