ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় এক বিরল বৈঠক। শীতকালীন অধিবেশন চলাকালে পার্লামেন্টের অলিন্দে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক স্থায়ী হয় টানা ৮৮ মিনিট, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে।
প্রধান তথ্য কমিশনার নিয়োগকে কেন্দ্র করে এই বৈঠক আহ্বান করা হলেও আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল আরও বিস্তৃত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
সূত্র জানায়, রাহুল গান্ধী দুপুর ১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছান এবং ১টা ৭ মিনিটে বৈঠক শুরু হয়। আলোচনার পর জানা যায়, শুধু প্রধান তথ্য কমিশনার নয়, আটজন তথ্য কমিশনার এবং একজন ভিজিল্যান্স কমিশনার নিয়োগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রাহুল গান্ধী বৈঠকে প্রস্তাবিত প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান এবং লিখিতভাবে তার অসন্তোষ পেশ করেন। তিনি যুক্তি দেন, ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ যে সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত— সেই বহুজন শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব প্রস্তাবিত তালিকায় প্রায় নেই বললেই চলে।
কংগ্রেস সূত্রের দাবি, রাহুল গান্ধী আবেদনকারী প্রার্থীদের জাতিগত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়েছিলেন। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আবেদনকারীদের ৭ শতাংশেরও কম বহুজন সম্প্রদায়ভুক্ত— যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের দায়িত্বে থাকা তদারকি সংস্থাগুলোতে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন তোলে।
তিনি কমিটিকে জানান, এটি কাঠামোগত বৈষম্য এবং গুরুত্বপূর্ণ তদারকি প্রতিষ্ঠানে প্রান্তিক গোষ্ঠীগুলোর প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। সরকার এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন— নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে।
বর্তমানে ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন (CIC)–এ প্রধান তথ্য কমিশনারসহ মোট ৮টি পদ শূন্য। আরটিআই আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন কেবল দুই কর্মকর্তা—আনন্দী রামালিঙ্গম ও বিনোদ কুমার তিওয়ারি। সিআইসি–এর তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৩০ হাজার ৮৩৮টি মামলা অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর হীরালাল সামারিয়ার অবসরের পর থেকে প্রধান তথ্য কমিশনারের পদটি খালি। আইন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি— যাতে বিরোধী দলীয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রী মনোনীত একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকেন— তথ্য কমিশনারদের নির্বাচন ও সুপারিশ করে থাকে।
তথ্য কমিশনার নিয়োগ নিয়ে মোদি–রাহুলের এই দীর্ঘ বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। নিয়োগ সংক্রান্ত চূড়ান্ত ঘোষণা শিগগিরই আসবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
