মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করতে দেবেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
ইসরায়েলের কিছু উগ্র ডানপন্থী নেতা দেশটির সঙ্গে পশ্চিম তীর যুক্ত করে সেখানে নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তাঁরা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাকে ধূলিসাৎ করতে চান। তাঁদের এ আহ্বান নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প।
ওভাল অফিসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করতে দেব না, কোনোভাবেই না। এটা হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে। এবার থামতে হবে।’
ট্রাম্প এমন সময় এ মন্তব্য করলেন, যখন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাচ্ছিলেন। আজ শুক্রবার সেখানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি।
দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে গত কয়েক দিনে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েল।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পশ্চিম তীর দখল করে ইসরায়েল। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ এ দখলদারির স্বীকৃতি দেয়নি। এর পর থেকেই সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরব ও মুসলিম দেশগুলো ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছে, পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিণতি বিপজ্জনক হতে পারে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ বলেছেন, ট্রাম্প বিষয়টি ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন।

পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ২৭ লাখ ফিলিস্তিনির মধ্যে ৭ লাখ ইসরায়েলি বসবাস করছেন। ইসরায়েল অঞ্চলটির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে রাজি নয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা শুরুর পর থেকে এ অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশির ভাগই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বলে মনে করে। ইসরায়েল অবশ্য এ মনোভাবের বিরোধিতা করে আসছে।

2 Replies to “পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করতে দেব না: ট্রাম্প”
Comments are closed.