টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা এবং ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়ে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলসহ বিভিন্ন অঞ্চল। এছাড়া, দেশটির মধ্যাঞ্চলে চেওংজু শহরে বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া একটি টানেল থেকে ১৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকর্মীরা।
এ নিয়ে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাড়িয়েছে।
তবে সোমবার (১৭ জুলাই) সকাল পর্যন্ত অন্তত নয়জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি নিউজ।
শনিবার তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে পার্শ্ববর্তী মিহো নদীর তীর ধসে পড়লে চার লেনের আন্ডারপাসটি প্লাবিত হয়।
৬৮৫ মিটার (২ হাজার ২৪৭ ফুট) টানেলটিতে কতজন আটকা পড়েছে তা এখনও প্রকাশ করতে না পারলেও সেখানে ১৫টি যানবাহন ছিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
তবে বেশ কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে,
‘টানেলটি ডুবে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা আগেও নদী ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ অফিস থেকে একটি সতর্কতা জারি করা হয়েছিলো।’
‘কিন্তু তখন টানেল এলাকা থেকে যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।’
বার্তা সংস্থা বিবিসি নিউজ জানায়,
‘কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টির কারণে বন্যা, ভূমিধস দেখা দেয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে দেশের বেশিরভাগ অংশ।’
‘বেশীরভাগ প্রাণহানি হয়েছে পার্বত্য উত্তর গিয়ংসাং অঞ্চলে, যেখানে ভূমিধসে পুরো বাড়িঘর ভেসে গেছে।’
শনিবার দক্ষিণ কোরিয়া জুড়ে প্রায় ৩০০ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে কোরিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন।
এদিকে, বন্যা ও ভূমিধসের ফলে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখনো বন্যাকবলিত অঞ্চলে আটকে আছে অন্তত এক হাজারের বেশি বাসিন্দা।
আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীকে সাহায্য করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু।
