সাবেক ফার্স্টলেডির আটকাদেশ বাড়ল আরও ১০ দিন

দক্ষিণ কোরিয়ার কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লের স্ত্রী ও সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিয়ন হি-কেও গ্রেফতার করা হয়েছে। শেয়ার বাজার কারসাজি, ঘুষ গ্রহণসহ একাধিক অভিযোগে মঙ্গলবার চার ঘণ্টাব্যাপী শুনানির পর তাকে আটকাদেশ দেওয়া হয়। আদালত জানিয়েছে, প্রমাণ নষ্ট করার সম্ভাবনা থাকায় তাকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এটি দেশটির ইতিহাসে প্রথম ঘটনা, যেখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি দুজনই একই সময়ে কারাগারে রয়েছেন। ইউন চলতি বছরের জানুয়ারিতে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ চেষ্টার অভিযোগে আটক হন, যা দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং তার ক্ষমতাচ্যুতি ঘটে।

৫২ বছর বয়সী কিম কিয়ন হি-র বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিএমডব্লিউ ডিলার ডয়চ মোটর্স-এর শেয়ারদরের কারসাজিতে অংশ নিয়ে তিনি প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ৫.৭ লাখ মার্কিন ডলার) অবৈধভাবে আয় করেন। ঘটনাটি ইউন প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ঘটলেও পুরো প্রেসিডেন্ট মেয়াদজুড়েই বিতর্কের জন্ম দেয়।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্ত্রী কিম কুন হির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নির্বাচন প্রভাবিত করা, ঘুষ নেওয়া এবং তার স্বামী ইউন সুক ইওলের শাসনামলে ক্ষমতার অপব্যবহার করা।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সাবেক প্রেসিডেন্টর জেল হওয়ার ঘটনা রয়েছে। তবে, কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট দম্পতির কারাগারে থাকার ঘটনা এটাই প্রথম।

গত বছরের ৩ ডিসেম্বর সামরিক শাসন ঘোষণা বাতিলের ভোট আটকাতে দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্টে সশস্ত্র সেনা পাঠান ইওল, যা দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে। এরপর জানুয়ারিতে তাকে আটক করা হয়। পরে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি।

আইনজীবীরা বলছেন, ৫২ বছর বয়সি কিম শেয়ার বাজারে কারসাজি করে ৮০০ মিলিয়ন ইউন (দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা) বা ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৯৪০ মার্কিন ডলার কামিয়েছেন। তিনি এমনটা করেছিলেন তার স্বামীর প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে। এমনকি, স্বামী প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও একই কাজ অব্যাহত রাখেন কিম।

কিমের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের সংসদীয় উপনির্বাচন এবং গত বছরের সাধারণ নির্বাচনের সময় প্রার্থী মনোনয়নে হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে।

এনএএন টিভি