পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই একের পর এক চমক দিয়ে যাচ্ছে। সরাসরি অংশ নিতে না পারলেও দলটির সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছেন। বিষয়টি একটি বড় চমক হয়ে এসেছে পুরো পাকিস্তানের জন্য। এরই মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে জেলে বসেই দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইমরান, বিজয় উদযাপন করতে বলেছেন।
নির্বাচনী ফল ঘোষণায় বিলম্ব সত্ত্বেও শুক্রবার রাতের মধ্যেই পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের খবর পাওয়া যায়। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি ইমরান খানের একটি বক্তব্য প্রচারিত হয়। এতে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের জাতীয় নির্বাচনে জাতি নজিরবিহীনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ নির্বাচনে পিটিআই বিজয়ী হয়েছে।
পাকিস্তানি জনগণকে উদ্দেশ্য করে ইমরান খান বলেন, আপনারা ইতিহাস গড়েছেন। আমি আপনাদের নিয়ে গর্বিত। এখন আর কেউ আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না। আপনাদের চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। আপনারা বিজয় উদ্যাপন করুন। আপনারা নিজেদের ভোটের শক্তি দেখেছেন। এবার নিজেদের ভোট রক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
বক্তব্যে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতা নওয়াজ শরিফের সমালোচনা করে ইমরান খান বলেন, পাকিস্তানের কোনো নাগরিকই তাকে মেনে নেবে না। এ সময় ভোট জালিয়াতির অভিযোগও করেন তিনি।
পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনে ২৬৬টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সন্ত্রাসী হামলায় এক প্রার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ফলে নির্ধারিত ৮ ফেব্রুয়ারি ২৬৫টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৫১ আসনের ফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০১ আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, যাদের বেশিরভাগই পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পিএমএল-এন ৭০ আসনে জয় পেয়েছে। ৫১টি আসনে জয় নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে পিপিপি। এ ছাড়া এমকিউএমসহ অন্যান্য দল ২৯টি আসনে জয়ী হয়েছে।
