মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন পদক্ষেপ: ফেডের গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ, কুকের বিরুদ্ধে বন্ধকী ঋণের নথিতে ভুয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ স্বাধীন সংস্থা হিসেবে কাজ করে। তাই প্রেসিডেন্টের এ ধরনের পদক্ষেপ নজিরবিহীন। বিষয়টি আদালতে গড়ালে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা পরীক্ষা হতে পারে।

ট্রাম্প কুককে লেখা চিঠিতে বলেন, তাঁকে বরখাস্ত করার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে। অভিযোগ হলো, ২০২১ সালে মিশিগান ও জর্জিয়ার দুটি বাড়ির ওপর আলাদা বন্ধকি ঋণ নেন কুক। উভয় ক্ষেত্রেই কাগজপত্রে বাড়ি দুটিকে নিজের ‘প্রধান বাসস্থান’ হিসেবে দেখান তিনি।

সোমবার রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে ট্রাম্প কুককে লেখা একটি চিঠি প্রকাশ করেন। তাতে তিনি জানান, কুকের বিরুদ্ধে বন্ধকী ঋণের নথিতে ভুয়া তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি তাকে অবিলম্বে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কুক কিংবা ফেডারেল রিজার্ভ কেউই এ বিষয়ে এখনো মন্তব্য করেনি।

বিবিসি বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প বারবার ফেডের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন— বিশেষ করে এর প্রধান জেরোম পাওয়েলকে লক্ষ্য করে। তার অভিযোগ, সুদের হার কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনীহা দেখাচ্ছে। এমনকি তিনি একাধিকবার পাওয়েলকে বরখাস্ত করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

গত সপ্তাহে বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাম্প কুককে পদত্যাগ করতে বললেও তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দেন, তিনি ফেডে কাজ চালিয়ে যাবেন। উল্লেখ্য, কুক ফেডের পরিচালনা বোর্ডে স্থান পাওয়া প্রথম কোনো আফ্রিকান আমেরিকান সদস্য।

২০ আগস্ট কুক বলেন, ‘শুধু একটি টুইটের কারণে আমি পদ ছাড়ব না। তবে আমার আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব এবং যথাযথ তথ্য দিয়ে উত্তর দেব।’

গত সপ্তাহেই ট্রাম্প তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। এ অভিযোগ প্রথমে তোলেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং হাউজিং ফাইন্যান্স নিয়ন্ত্রক বিল পুলটে। তিনি এটিকে ‘অপরাধমূলক রেফারেল’ আখ্যা দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে চিঠি পাঠান এবং ন্যায়বিচার বিভাগকে তদন্তের আহ্বান জানান। তবে তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এনএএন টিভি